শুভেন্দুর পুলিশের প্রথম বড় অ্যাকশন! তোলাবাজি ও হুমকিতে শ্রীঘরে তৃণমূল কাউন্সিলর শান্তনু – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বরাহনগর পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শান্তনু মজুমদার ওরফে মেজোকে গ্রেফতার করল বালি থানার পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে শান্তনুর পাশাপাশি তাঁর ভাই সাগর মজুমদারকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মূলত ভাড়াটে সমস্যা মেটানোর নামে তোলাবাজি, সাধারণ মানুষকে হুমকি প্রদান এবং বেআইনিভাবে আটকে রাখার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এই প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে।
অভিযোগের নেপথ্যে ও পুলিশের ভূমিকা
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই এলাকায় বিভিন্ন বিবাদ মেটানোর নামে শান্তনু ও তাঁর অনুগামীরা জুলুম চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ জমা পড়ছিল। সম্প্রতি একটি নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বালি থানার পুলিশ তদন্তে নামে। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পরই মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে দুই ভাইকে গ্রেফতার করা হয়। বিরোধী শিবিরের একাংশ একে ‘শুভেন্দুর পুলিশ’-এর সক্রিয়তা হিসেবে বর্ণনা করলেও, পুলিশ একে আইনি প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখছে।
বিতর্কিত অতীত ও সম্ভাব্য প্রভাব
শান্তনু মজুমদারের গ্রেফতারি এই প্রথম নয়, তাঁর বিরুদ্ধে হিংসাত্মক কার্যকলাপের পুরনো রেকর্ড রয়েছে। ২০২৪ সালের বরাহনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের দিন সিপিআইএম প্রার্থী তন্ময় ভট্টাচার্যকে শারীরিক হেনস্থা ও মারধরের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম জড়িয়েছিল তাঁর। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা ও উপনির্বাচনের পর শাসকদলের কাউন্সিলরের এই গ্রেফতারি বরাহনগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় তৃণমূলের ভাবমূর্তিকে কিছুটা চাপে ফেলতে পারে। বিশেষ করে ‘তোলাবাজি’ রুখতে প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করার সম্ভাবনা রয়েছে। আপাতত শান্তনু ও তাঁর ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই চক্রে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
