সোনা ও রুপোর আমদানি শুল্ক একলাফে ১৫ শতাংশ, আর্থিক সংকট রুখতে কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের – এবেলা

সোনা ও রুপোর আমদানি শুল্ক একলাফে ১৫ শতাংশ, আর্থিক সংকট রুখতে কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দেশের টালমাটাল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে সোনা ও রুপোর আমদানি শুল্ক এক ধাক্কায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তে মূল্যবান ধাতুর মৌলিক কাস্টমস শুল্ক ১০ শতাংশ এবং কৃষি পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সেস (AIDC) ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ কমানো এবং ডলারের বিপরীতে টাকার রেকর্ড পতন রোধ করতেই সরকারের এই কঠোর অবস্থান।

আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও টাকার মান রক্ষা

বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কায় ভারতীয় মুদ্রা প্রবল চাপের মুখে পড়েছে। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ৯৫.৭৫-এর রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তরে নেমে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি কমানো অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। গত বছর শেয়ার বাজারের অস্থিরতার কারণে ভারতের সাধারণ মানুষের মধ্যে সোনা কেনার প্রবণতা এবং গোল্ড ইটিএফ-এ বিনিয়োগ প্রায় ১৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করে বৈদেশিক মুদ্রার বহির্গমন রোধ করাই এখন কেন্দ্রের প্রধান লক্ষ্য। এর আগে ব্যাঙ্কগুলির মাধ্যমে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করে গত এপ্রিলে সোনা আমদানি ৩০ বছরের সর্বনিম্ন স্তরে নামিয়ে আনা হয়েছিল।

চাহিদা হ্রাস ও চোরাচালানের আশঙ্কা

আর্থিক বিশ্লেষক এবং শিল্প মহলের মতে, শুল্ক বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত সরাসরি খুচরো বাজারে প্রভাব ফেলবে। বর্তমান চড়া মূল্যের বাজারে অতিরিক্ত কর যুক্ত হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমবে, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমিয়ে আনবে। তবে ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের মতো সংগঠনগুলো সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, উচ্চ করের কারণে দেশে পুনরায় সোনার চোরাচালান ও কালোবাজারি সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে শুল্ক কমানোর ফলে যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছিল, তা ফের মাথাচাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান

শুল্ক বৃদ্ধির কয়েক দিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে বাস্তবসম্মত মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিশেষ করে আগামী এক বছর বিয়ের কেনাকাটায় সোনা এড়িয়ে চলা, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ রাখা এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে গণপরিবহন ব্যবহারের ওপর জোর দেন তিনি। ইরান-মার্কিন সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বাড়লে যে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হবে, তা মোকাবিলা করতেই দেশবাসীকে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূলত দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক ধাক্কা থেকে পরিবার ও রাষ্ট্রকে সুরক্ষিত রাখতেই সরকার এই বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *