প্রতিজ্ঞার জয়, ভাঙা গাড়িতে চড়েই বিধানসভায় শপথ নিতে পৌঁছালেন নওশাদ

২০২৩ সালের সেই ক্ষত আজও অমলিন। ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী আজ যখন বিধানসভায় শপথ নিতে পৌঁছালেন, তখন সকলের নজর কেড়ে নিল তার ভাঙাচোরা গাড়িটি। তিন বছর আগে হামলার মুখে পড়া সেই একই গাড়ি নিয়ে আজ নতুন মেয়াদে দায়িত্ব বুঝে নিতে এলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে নওশাদের একরোখা জেদ এবং দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অতীতের সংঘাত ও রাজনৈতিক প্রতিজ্ঞা
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালে। ভাঙড়ের হাতিশালায় দলীয় পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও আইএসএফ কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বেঁধেছিল। সেই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছিল কলকাতার ধর্মতলা পর্যন্ত। অভিযোগ ওঠে, সেই সময় নওশাদ সিদ্দিকীর কনভয়ে হামলা চালানো হয় এবং তার গাড়িটি লক্ষ্য করে ব্যাপক ইটবৃষ্টি করা হয়। গাড়ির সামনের কাচ এবং লুকিং গ্লাস চুরমার হয়ে গিয়েছিল। সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেই নওশাদ শপথ করেছিলেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোট পর্যন্ত তিনি এই গাড়িটি সারাবেন না। এই ভাঙা গাড়িই হবে তার ওপর হওয়া রাজনৈতিক আক্রমণের জীবন্ত দলিল।
শপথ গ্রহণে ব্যতিক্রমী প্রতিচ্ছবি
বুধবার বিধানসভায় শপথ নিতে যাওয়ার আগে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করেন নওশাদ। সেখানে দেখা যায়, গাড়ির সামনের কাচ এখনও সেই ভাঙা অবস্থাতেই রয়েছে। এমনকি একদিকের আয়নাটিও লাগানো হয়নি। এই জরাজীর্ণ অবস্থা নিয়েই তিনি কলকাতার রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নওশাদ এই ভাঙা গাড়ির মাধ্যমে শাসকদলের প্রতি এক নীরব প্রতিবাদ জারি রাখলেন।
গাড়ির কাচ ও ভবিষ্যৎ রাজনীতির প্রভাব
নওশাদ সিদ্দিকীর এই পদক্ষেপ কেবল একটি আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত নয়, বরং এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক কৌশল কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের সহানুভূতি এবং কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে এই ‘প্রতীকী প্রতিবাদ’ কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে। একইসঙ্গে, বিরোধী শিবিরের ওপর হওয়া ক্রমাগত হামলার বিষয়টি সাধারণ ভোটারদের স্মৃতিতে বারবার ফিরিয়ে আনাই তার লক্ষ্য। আগামী দিনে বিধানসভার অধিবেশনে এই ভাঙা গাড়ির ইস্যু এবং পুরনো সংঘাতের রেশ বিরোধী কণ্ঠস্বরকে আরও ধারালো করতে পারে।
