বেআইনি কারখানায় এবার অন্ধকার! এক কোপে বিদ্যুৎ-জলের লাইন কাটার নির্দেশ শুভেন্দুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তিলজলা থানা এলাকার তপসিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। ওই ঘটনায় দুই শ্রমিকের মৃত্যুর পর উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির রিপোর্টে উঠে আসা তথ্যকে রাজ্যের জন্য ‘অশনিসঙ্কেত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শহরে কোনোভাবেই অবৈধ কারখানার দৌরাত্ম্য বরদাস্ত করা হবে না। এই বিষয়ে রাজ্য প্রশাসন এখন থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করবে।
অবৈধ পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ
তিলজলার সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিককে ইতিমধ্য়েই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তদন্তে দেখা গিয়েছে ওই কারখানাটির কোনো অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান ছিল না এবং সেখানে অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ওই অবৈধ বহুতলটি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুরসভা এবং পুলিশকে যৌথভাবে এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, ওই কারখানার জল ও বিদ্যুৎ সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
শহরজুড়ে কড়া নজরদারি ও অডিটের বার্তা
তপসিয়ার ঘটনার রেশ ধরে কলকাতা ও শহরতলীর অন্যান্য এলাকাতেও চিরুনি তল্লাশির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর এবং একবালপুরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কতগুলি কারখানা অবৈধভাবে চলছে, তার অভ্যন্তরীণ অডিট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিইএসসি-কে। মুখ্যমন্ত্রী সচিব পর্যায়ের আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, যে সমস্ত কারখানার বৈধ কাগজপত্র নেই, সেগুলির বিদ্যুৎ ও জলের সংযোগ অবিলম্বে বিচ্ছিন্ন করতে হবে।
প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপের মূল কারণ হলো জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এই অবৈধ কারখানাগুলি ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া হুঁশিয়ারি মূলত বেআইনি কারবারিদের প্রতি একটি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা, যেখানে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে পরিকাঠামোগত নিয়ম লঙ্ঘন করলে প্রশাসন আর কোনো ছাড় দেবে না।
