দরকার হলে জেলে পাঠান, টাকা ফেরত চাইবেন না! ২৫ লক্ষের ফতোয়া শুনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন চাকরিহারা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
স্কুলের চাকরি খুইয়েছেন অনেক আগেই, কিন্তু সেই ক্ষতে নতুন করে নুন ছিটিয়ে দিয়েছে বেতন ফেরতের সাম্প্রতিক নির্দেশ। দীর্ঘ কয়েক বছরের বেতন এককালীন ফিরিয়ে দেওয়ার কথা শুনে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির বাসিন্দা দিব্যেন্দু চাকি। অভাবের তাড়নায় তিনি এখন এতটাই নিরুপায় যে, টাকা ফেরানোর বদলে কারাবরণকেই শ্রেয় বলে মনে করছেন।
অযোগ্যতার তকমা ও আর্থিক অনিশ্চয়তা
২০১৮ সালে শিলিগুড়ির নেতাজি হাইস্কুলে গ্রুপ-ডি কর্মী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন দিব্যেন্দু। ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে আদালতের কোপে পড়ে তাঁর চাকরিটি চলে যায়। তবে দিব্যেন্দুর দাবি, তিনি কোনো অসদুপায় অবলম্বন করেননি বা ওএমআর শিট ফাঁকা রাখেননি। বর্তমানে একটি বেসরকারি সংস্থায় অতি সামান্য বেতনে কাজ করা এই কর্মীর মাথায় এখন ঋণের পাহাড়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অযোগ্য ঘোষিত অনেককেই প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বেতন ফেরত দিতে হতে পারে। এই বিপুল অংকের টাকা জোগাড় করা তাঁর মতো সাধারণ পরিবারের মানুষের পক্ষে আসাম্ভব।
প্রশাসনের তৎপরতা ও মানবিক সংকট
ইতিমধ্যেই শিক্ষা দফতর থেকে জেলাশাসকদের কাছে কড়া নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। বেতন ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া কতদূর এগুলো, সেই সংক্রান্ত ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ দ্রুত জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রশাসনের এই সক্রিয়তা কয়েকশো গ্রুপ-ডি কর্মী ও শিক্ষকদের ভবিষ্যৎকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
আবেগপ্রবণ কণ্ঠে দিব্যেন্দু জানান, দুর্নীতিবাজদের আড়াল করে তাঁদের মতো চুনোপুঁটিদের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে। তাঁর সাফ কথা, সংসার চালানোর ন্যূনতম সামর্থ্যটুকু যেখানে নেই, সেখানে লক্ষ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ার কোনো পথ খোলা নেই। এই চরম অনিশ্চয়তা ও সামাজিক আসাম্মানের হাত থেকে বাঁচতে তিনি এখন প্রশাসনের কাছে জেলবন্দি হওয়ার আর্তি জানাচ্ছেন। এই ঘটনা রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতির মামলার এক করুণ ও মানবিক সংকটের দিকটিই প্রকট করে তুলেছে।
