শপথের মেনুতে এলাহি বাঙালিয়ানা, বিজেপি বিধায়কদের পাতে এবার মাছে-ভাতে ভোজ!

বিধানসভার অন্দরে বুধবার নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে শপথের গাম্ভীর্যের মাঝে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে মধ্যাহ্নভোজের রাজকীয় মেনু। প্রোটেম স্পিকার তথা মানিকতলার বিধায়ক তাপস রায়ের বিশেষ তত্ত্বাবধানে বিজেপি বিধায়কদের জন্য আয়োজিত এই মধ্যাহ্নভোজে আদ্যোপান্ত বাঙালিয়ানার ছোঁয়া লেগেছে। মেনুর প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রাখা হয়েছে বাঙালির চিরন্তন প্রিয় ‘মাছ-ভাত’।
মাছ-ভাতে রাজনৈতিক কৌশলের ছোঁয়া
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভার ভেতরে এই এলাহি মাছ-ভাতের আয়োজন নিছকই ভোজন নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক কৌশল। এই আয়োজনের মাধ্যমে প্রোটেম স্পিকার স্পষ্ট করে দিতে চেয়েছেন যে, নতুন জমানাতেও বাঙালির রসনাতৃপ্তি এবং ঐতিহ্যে কোনো আঘাত আসবে না। মূলত রাজ্যের মানুষের সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার লক্ষ্যেই এই বিশেষ মেনু নির্বাচন করা হয়েছে।
ভাঙছে মিথ, নতুন বার্তায় সরব গেরুয়া শিবির
দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে একটি প্রচার ছিল যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ আসবে। বিশেষ করে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছিল যে, বিজেপি মাছ-মাংস খাওয়ার ওপর বিধিনিষেধ চাপাতে পারে। সেই তত্ত্বকে সম্পূর্ণ নসাৎ করতেই ৪ মে নির্বাচনের ফলের পর সল্টলেকের রাজ্য দফতরে মাছ-ভাতের ভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। এবার সেই একই ধারা বিধানসভার অলিন্দে পৌঁছে দিয়ে বিজেপি প্রমাণ করতে চাইছে যে, তারা বাঙালির অস্মিতা ও সংস্কৃতির পরিপন্থী নয়।
বিরোধীদের প্রচার মোকাবিলায় অস্মিতার লড়াই
ভোটের প্রচারে ‘বাঙালি অস্মিতা’ এবং ‘মাছ খাওয়া বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা’ যে প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছিল, শপথের দিনের এই লাঞ্চ মেনু তার কার্যকর পাল্টা জবাব বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার নিজেদের ‘মাছ-বান্ধব’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। বিধানসভার এই মাছ-ভাতের ভোজ আদতে সাধারণ মানুষের মনে গেঁথে থাকা ‘বাঙালিবিরোধী’ তকমা মুছে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে বার্তাসমূহ স্পষ্ট যে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঢেউ এলেও বাঙালির পাত থেকে তার মাছ-ভাত হারিয়ে যাচ্ছে না।
