লক্ষ্য ৯০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য! নরডিক দেশ ও ইতালি সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আগামী ১৯ মে নরওয়ের রাজধানী ওসলোতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তৃতীয় ভারত-নর্ডিক শীর্ষ সম্মেলন। এই সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীরা অংশগ্রহণ করবেন। এই সফরটি উত্তর ইউরোপের নর্ডিক অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নর্ডিক দেশগুলো বর্তমানে ভারতের জন্য প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রধান অংশীদার। বর্তমানে ভারত ও নর্ডিক দেশগুলোর মধ্যে পণ্য ও পরিষেবার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। উল্লেখযোগ্য যে, ভারতে বর্তমানে ৭০০-র বেশি নর্ডিক কো ম্পা নি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে, অন্যদিকে নর্ডিক দেশগুলোতেও প্রায় ১৫০টি ভারতীয় কো ম্পা নির উপস্থিতি রয়েছে। ওসলো সফরে মোদী ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড এবং ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীদের সাথে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও মিলিত হবেন।
প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্কের নতুন দিগন্ত
নর্ডিক সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী ইতালিতে পাড়ি দেবেন। ইতালির সাথে ভারতের প্রতিরক্ষা ও শিল্প সহযোগিতা বর্তমানে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সহ-উন্নয়ন এবং যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা রক্ষা এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন রুখতে ভারত ও ইতালি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইতালিতে বসবাসরত প্রায় আড়াই লক্ষ ভারতীয় নাগরিক এবং ছয় হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী দুই দেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন।
সফরের প্রভাব ও সম্ভাব্য চুক্তি
প্রধানমন্ত্রীর এই ইউরোপীয় সফরটি ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এই সফরের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, গ্রিন এনার্জি এবং ডিজিটাল রূপান্তরের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুন সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হতে পারে। এটি কেবল বাণিজ্যিক সম্পর্কই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে। সামগ্রিকভাবে, এই সফর বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নত প্রযুক্তির আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভারত ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
