বিধানসভায় শপথ নিলেন ১৪০ বিধায়ক: কুণাল-ফিরহাদদের ভিড়ে নজর কাড়লেন আউশগ্রামের কলিতা মাঝি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্য বিধানসভায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণ পর্বের দ্বিতীয় দিনেও রাজনৈতিক তৎপরতা ও নাটকীয়তার সাক্ষী থাকল তেরঙা হাউস। বুধবারের পর বৃহস্পতিবার দুই দফায় মোট ১১টি জেলার ১৪০ জন বিধায়ক শপথ গ্রহণ করেন। প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান। দুই দিন মিলিয়ে ২৯৩ জন জয়ী সদস্যের মধ্যে মোট ২৯০ জন বিধায়ক শপথ নিলেন।
এদিনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হেভিওয়েটদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিলেন আউশগ্রামের বিধায়ক কলিতা মাঝি, যিনি পেশায় একসময় পরিচারিকা ছিলেন। তাঁর এই উত্তরণ বিধানসভার অলিন্দে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও হুমায়ুন কবীর একটি করে আসন ছাড়বেন বলে জানা গেছে এবং বিধায়ক স্বাতী খন্দকার অসুস্থতার কারণে এদিন উপস্থিত থাকতে পারেননি।
শপথের মঞ্চে রাজনৈতিক স্লোগান
এদিনের অনুষ্ঠান নিছক নিয়মরক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক স্লোগানকে কেন্দ্র করে। চৌরঙ্গির বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় যখন শপথ নিতে উঠছিলেন, তখন বিজেপি বিধায়ক মনোজ ওঁরাও তাঁকে লক্ষ্য করে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেন। পাল্টা হিসেবে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এই ঘটনায় বিধানসভার ভেতরে সাময়িক উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হলেও পরবর্তীতে রীতি মেনেই শপথ পর্ব সম্পন্ন হয়। সংসদীয় রাজনীতির এই সংঘাতের আবহ বিধানসভার আগামী দিনের উত্তপ্ত মেজাজকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অধ্যক্ষ নির্বাচন ও আগামী দিনের প্রস্তুতি
শপথগ্রহণ পর্ব শেষ হতেই বিধানসভার পরবর্তী নজর এখন স্পিকার নির্বাচনের দিকে। শুক্রবার রাজ্য বিধানসভার একদিনের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে নতুন স্পিকার বা অধ্যক্ষ নির্বাচনের জন্য। সরকার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্র বোসের নাম এই পদের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্য কোনো দলের পক্ষ থেকে কোনো নাম জমা না পড়ায়, মনে করা হচ্ছে রথীন্দ্র বোস সর্বসম্মতিক্রমেই অষ্টাদশ বিধানসভার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিধানসভার পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে রাজ্য প্রশাসন।
