“রাজনীতিতে এসে ভুল করেছি…” তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মনের বাড়িতে আগুন, কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্বর্ণজয়ী অ্যাথলিট! – এবেলা

“রাজনীতিতে এসে ভুল করেছি…” তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মনের বাড়িতে আগুন, কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্বর্ণজয়ী অ্যাথলিট! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ যেন থামছেই না। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার মধ্যেই এবার জলপাইগুড়িতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মনের পুরনো বাড়িতে রাতের অন্ধকারে আগুন লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনার পর তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে স্বপ্না বর্মণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, “রাজনীতিতে এসে আমি চরম ভুল করেছি, ওরা আমার ঘর পুড়িয়ে দিল।”

জলপাইগুড়ির পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোষপাড়ায় স্বপ্না বর্মনের দুটি বাড়ি রয়েছে। বর্তমানে তিনি সপরিবারে নতুন বাড়িতে থাকলেও, তাঁর পুরনো বাড়িটিতেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্বপ্না নিজেই ফেসবুকে প্রথম এই অগ্নিকাণ্ডের খবরটি শেয়ার করেন। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, বাইরে প্রবল বৃষ্টি হওয়ার কারণে আগুন বাড়ির ভেতরের অংশ থেকে বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। দমকল কর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নাকি অন্য কিছু?

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, স্বপ্নার ওই পুরনো বাড়িটিতে কেউ থাকত না। ভেতরের একটি ঘরে কিছু কাঠ এবং কাগজ রাখা ছিল, যেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে এই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনের উৎস নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়েই জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল সভানেত্রী মহুয়া গোপ স্থানীয় নেতৃত্ব ও পুলিশ সুপারকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। স্বপ্নার দাদা অসিত বর্মনের সরাসরি দাবি, তাঁদের পুরনো বাড়িতে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বপ্নার সমর্থকরা এই ঘটনার জন্য বিরোধী দল বিজেপির দিকেই আঙুল তুলেছেন।

পাল্টা দাবিতে সরব বিরোধীরা

অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি। বিরোধীদের দাবি, ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে স্বপ্না বর্মণ যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়েছেন, তার সঠিক এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি, স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, রেলের চাকরি খোয়ানো এবং নির্বাচনে পরাজয়ের পর মানুষের সহানুভূতি পেতেই স্বপ্না এই ধরণের আবেগঘন মন্তব্য বা নাটক করছেন। তবে জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ সুপার অমরনাথ জানিয়েছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *