মোদীর মেগা ডিল: ২ ঘণ্টায় ভারত-UAE চুক্তি, এলপিজি ও সুপার কম্পিউটারে ৪৮ হাজার কোটির বিপুল বিনিয়োগ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চারটি ইউরোপীয় দেশ সফরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে শুক্রবার দুপুরে মাত্র সোয়া দুই ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে আবুধাবি পৌঁছান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সংক্ষিপ্ত সময়েই ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে সাতটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি। এর ফলে দুই দেশের কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল। এই মেগা ডিলের আওতায় ভারত ও ইউএই-র মধ্যে জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব জোরালো হবে। আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স তথা প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সাথে মোদীর এই বৈঠকের মাধ্যমে ইউএই ভারতে ৪৮ হাজার কোটি রুপি (৫ বিলিয়ন ডলার) নতুন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও কৌশলগত তেলের ভাণ্ডার
এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে ভারতের জ্বালানি ক্ষেত্রে বিশাল অগ্রগতি হতে চলেছে। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা আইওসিএল এবং ইউএই-র ‘অ্যাডনক’ (ADNOC) যৌথভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম এবং ওড়িশার চণ্ডীখোলে তিন কোটি ব্যারেলের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম ভাণ্ডার গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি এলপিজি ও এলএনজি সরবরাহের বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মূল কারণ হলো বৈশ্বিক সংকটের সময়েও ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে যেন জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় থাকে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা পায়। অন্যদিকে, ইউএই ২০২৭ সালের মধ্যে হরমুজ প্রণালীকে এড়িয়ে সরাসরি তেল রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা দ্বিগুণ করতে একটি বিশেষ পাইপলাইন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যে তাদের প্রভাব আরও বাড়িয়ে দেবে।
প্রতিরক্ষা ও সুপার কম্পিউটার ক্লাস্টার
বাণিজ্য ও জ্বালানির পাশাপাশি এই চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতেও। দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে ভারতে একটি শক্তিশালী সুপার কম্পিউটার ক্লাস্টার (৮ এক্সাফ্লপ্স ক্ষমতাসম্পন্ন) স্থাপন করা হবে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ট্রেনিং, উন্নত গবেষণা ও বড় প্রযুক্তিগত মডেল পরিচালনায় ব্যবহৃত হবে। এছাড়া, গুজরাটের ওয়াদিনারে একটি শিপ রিপেয়ারিং বা জাহাজ মেরামত ক্লাস্টার তৈরি করা হবে, যা দেশের লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, যৌথ সামরিক মহড়া ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি ব্যাপক প্রতিরক্ষা কৌশলগত কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ইউএই-র আকাশসীমায় মোদীর বিমানকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান দিয়ে এসকর্ট করা এবং বিমানবন্দরে খোদ প্রেসিডেন্টের অভ্যর্থনা দুই দেশের গভীর বন্ধুত্বেরই প্রতিফলন ঘটায়।
