ইউএই সফর সেরে নেদারল্যান্ডসে পিএম মোদী, ফোকাসে সেমিকন্ডাক্টর ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি – এবেলা

ইউএই সফর সেরে নেদারল্যান্ডসে পিএম মোদী, ফোকাসে সেমিকন্ডাক্টর ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পাঁচটি দেশ সফরের দ্বিতীয় চরণে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে সরাসরি নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডামে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি যখন দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে এক নতুন গতি দিয়েছে, ঠিক সেই সন্ধিক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আমস্টারডাম বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ডচ সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ‘গার্ড অব অনার’ দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। রাজকীয় সামরিক পরিবারের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল লুডগার ব্রুমেলার এবং ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেন্ডসেনসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

দ্য হেগের যে হোটেলে প্রধানমন্ত্রী অবস্থান করছেন, সেখানে প্রবাসী ভারতীয়রা তাঁকে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। মোদী হোটেলে পৌঁছাতেই সমবেত জনতা উল্লাসে ফেটে পড়েন এবং ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক পরিবেশনার মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। ২০১৭ সালের পর নেদারল্যান্ডসে এটিই প্রধানমন্ত্রী মোদীর দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক সফর।

সেমিকন্ডাক্টর ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে বিশেষ নজর

নেদারল্যান্ডসে পৌঁছানোর পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সফরের মূল লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ প্রভাব স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাণিজ্য জোরদারে বড় ভূমিকা রাখছে। এই আবহে ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেতেনের সঙ্গে তাঁর আসন্ন বৈঠকটি সেমিকন্ডাক্টর, জল ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির (ক্লিন এনার্জি) মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ভবিষ্যৎমুখী খাতে ভারতের অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে। বাণিজ্য ও প্রযুক্তির পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গভীর করার বিষয়েও বিশদ আলোচনা হবে এই সফরে।

শাহী সাক্ষাৎ ও প্রবাসী কূটনীতি

ব্যস্ততম এই সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদী নেদারল্যান্ডসের রাজা উইলেম-আলেকজান্ডার এবং রানি মাক্সিমার সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবেন। এর পাশাপাশি সেখানে বসবাসরত বিশাল ভারতীয় সম্প্রদায়ের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানেও তাঁর বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে, যা দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আমজনতার স্তরে আরও মজবুত করবে। ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে এই সফরের ফলে একদিকে যেমন ইউরোপীয় বাজারে ভারতের বাণিজ্যিক প্রবেশাধিকার সহজ হবে, অন্যদিকে সেমিকন্ডাক্টর ও উচ্চ-প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ডাচদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভারত নিজের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *