নিত্যদিনের ক্লান্তি যখন গ্রাস করে জীবনকে, আপনি ‘বার্ন আউট’-এর শিকার নন তো? – এবেলা

নিত্যদিনের ক্লান্তি যখন গ্রাস করে জীবনকে, আপনি ‘বার্ন আউট’-এর শিকার নন তো? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ছুটি কাটানোর পরও কাটছে না ক্লান্তি, সকালে ঘুম থেকে উঠেই গ্রাস করছে এক চরম অবসাদ। কর্মক্ষেত্র কিংবা সংসারের চেনা ছকে বাঁধা জীবনকে মনে হচ্ছে অন্তহীন এক বোঝা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই মানসিক ও শারীরিক নিঃশেষিত অবস্থাকেই বলা হয় ‘বার্ন আউট’। প্রদীপের সলতে যেমন জ্বলতে জ্বলতে একসময় নিভে যায়, মানুষের জীবনীশক্তিও যেন সেভাবে ফুরিয়ে আসে এই সমস্যায়। বর্তমান যান্ত্রিক জীবনযাত্রায় এই নীরব ব্যাধি ক্রমেই মারাত্মক রূপ ধারণ করছে।

লক্ষণ দেখে চিনে নিন বার্ন আউট

বার্ন আউটের শিকার হলে মানুষের আচরণ ও স্বাস্থ্যে স্পষ্ট কিছু পরিবর্তন আসে। এর অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো সামাজিক যোগাযোগ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া। একসময় যারা অন্যের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতেন, তারা হুট করেই প্রিয়জনদের সঙ্গ এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। যেকোনো ছোটখাটো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও তৈরি হয় চরম উদাসীনতা ও ক্লান্তি। দিনভর বাধ্য হয়ে কাজ করার পর রাতে নিজের জন্য একটু সময় বের করতে গিয়ে অবচেতনভাবেই বাড়ে ফোন স্ক্রোল করার প্রবণতা, যা কেড়ে নেয় রাতের ঘুম। মেজাজ খিটখিটে হওয়া, অনুভূতিহীনতা এবং রবিবার থেকেই সোমবারের কর্মব্যস্ততা নিয়ে তীব্র মানসিক চাপ তৈরি হওয়া এর বড় লক্ষণ। শুধু মন নয়, শরীরও এর জানান দেয়। ঘাড়ের যন্ত্রণা, মাথা ভার হওয়া ও হজমের সমস্যার মতো শারীরিক উপসর্গগুলোও বার্ন আউটের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

কারণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব

অতিরিক্ত কাজের চাপ, কর্মক্ষেত্রে বা সংসারে কাজের সঠিক মূল্যায়ন না হওয়া এবং একটানা একঘেয়ে জীবনযাপনই মূলত বার্ন আউটের মূল কারণ। এটি কোনো সাধারণ ক্লান্তি নয় যা কেবল এক বা দুই দিনের ছুটিতে সেরে যাবে। এর প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। সময়মতো এই মানসিক অবসাদের প্রতিকার না করা হলে মানুষের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা পুরোপুরি লোপ পেতে পারে। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, দীর্ঘদিন এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে তা স্থায়ী মানসিক ও শারীরিক জটিলতায় রূপ নিতে পারে।

উত্তরণের উপায়

এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে সবার আগে ক্লান্তির প্রকৃত উৎসটি চিহ্নিত করা জরুরি। কোন কাজটি বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। নিজের ভালো লাগার কাজগুলোর জন্য প্রতিদিন কিছুটা সময় বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ অতিমাত্রায় বিষাক্ত হয়ে উঠলে পেশা বা কর্মস্থল পরিবর্তনের কথা ভাবা যেতে পারে। একইভাবে, সংসারের কাজের চাপ কমাতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা দরকার। জীবনযাত্রার এই পরিবর্তনের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনে অভিজ্ঞ মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *