মেয়ের জীবননাশের চেষ্টা ও মুখে অ্যাসিড হামলার চক্রান্ত, তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক বৈশাখী – এবেলা

মেয়ের জীবননাশের চেষ্টা ও মুখে অ্যাসিড হামলার চক্রান্ত, তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক বৈশাখী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দলের শীর্ষ নেতাদের তীব্র অহংকার ও ক্ষমতার দম্ভই তৃণমূলের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মূল কারণ বলে মনে করছেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে দলটির ভেতরের একাংশের ‘পৈশাচিক চেহারা’ প্রকাশ্যে এনে অত্যন্ত গুরুতর এবং চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, একসময় তাঁর শিশুকন্যাকে হত্যা করার এবং তাঁর নিজের মুখে অ্যাসিড ছুড়ে মারার এক ভয়ঙ্কর নীল নকশা তৈরি করা হয়েছিল, যার নেপথ্যে ছিলেন স্বয়ং তৃণমূলেরই অত্যন্ত প্রভাবশালী কিছু মুখ।

২০১৭ সালের সেই ভয়ঙ্কর রাত ও চক্রান্তের বিবরণ

২০১৭ সালের আগস্ট মাসের এক রাতের ঘটনা স্মরণ করে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে একটি রেস্তোরাঁয় নৈশভোজ করার সময় তাঁর ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে বার্তা আসে। সেখানে তাঁর ও তাঁর মেয়ের প্রাণসংশয়ের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে যোগাযোগ করা হলে বার্তা প্রেরক জানান, তিনি বৈশাখীর এক নারী নিরাপত্তারক্ষীর স্বামী। তাঁর স্ত্রীকে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়া হয়েছিল বৈশাখীর মেয়েকে খুন করার জন্য এবং বৈশাখীর মুখে অ্যাসিড হামলার জন্য। একই সাথে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একটি ভুয়ো ধর্ষণের মামলা সাজানোর চক্রান্তও করা হয়েছিল। এই গোটা পরিকল্পনার পেছনে তৃণমূলের শীর্ষ স্তরের একাংশ জড়িত ছিল বলে তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ।

পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা ও জাতীয় মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ

এই ঘটনার পর তৎকালীন পুলিশ কমিশনারের দ্বারস্থ হয়ে এফআইআর (FIR) দায়ের করেন বৈশাখী। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত যুবককে বাড়িতে ডেকে এক আইপিএস অফিসারের সামনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে কত টাকা এবং কত কিস্তিতে এই কাজের জন্য সুপারি পেয়েছিল, তা স্বীকার করে। কিন্তু এত বড় স্বীকারোক্তির পরও পুলিশ প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। পরবর্তীতে তিনি জাতীয় মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ হলে, তৎকালীন এক আইপিএস অফিসার পুরো ঘটনাটিকে ‘কাল্পনিক গল্প’ বা ‘ফিগমেন্ট অফ ইমাজিনেশন’ বলে রিপোর্ট জমা দিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। বৈশাখী জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি সেই সময়কার বয়ানের সমস্ত ভিডিও তথ্য প্রমাণ হিসেবে আবারও কমিশনের কাছে জমা দিতে চলেছেন।

দলীয় দম্ভ ও ফিরহাদ হাকিমকে সরাসরি নিশানা

রাজনৈতিক প্রসঙ্গে শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি জানান, দলে কেবল একজন পার্থ চট্টোপাধ্যায় নেই, বরং বহু চট্টোপাধ্যায়, মুখার্জি, বিশ্বাস ও হাকিম রয়েছেন, যাঁদের পৈশাচিক রূপ মানুষ ভালো করেই চেনে। কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে সরাসরি নিশানা করে তিনি মনে করিয়ে দেন, যে ফিরহাদ হাকিম একসময় তাঁকে কলেজ থেকে উপড়ে ফেলে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন, আজ লোকসভা নির্বাচনে মানুষ তাঁর দলকেই বহু জায়গায় উপড়ে ফেলেছে। ক্ষমতার দম্ভই যে দলের পতনের মূল কারণ, তা উল্লেখ করে বৈশাখী জানান যে অবশেষে তিনি এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *