বাঁকুড়ায় জয়ের উল্লাসে বিজেপির অভিনব ‘বুলডোজার মিছিল’, তোলপাড় রাজনীতি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাঁকুড়ার ওন্দা বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ের হ্যাটট্রিক ধরে রেখে এক নজিরবিহীন বিজয় উৎসব উদযাপন করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ঘাসফুল শিবিরকে ধুয়েমুছে সাফ করে জেলাজুড়ে ব্যাপক সাফল্যের পর, ওন্দার নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক অমরনাথ শাখা এক অভিনব অভিনন্দন যাত্রার আয়োজন করেন। সাধারণ কোনো বিজয় মিছিল নয়, এই মিছিলে মূল আকর্ষণ ছিল একটি বিশাল বুলডোজার, যার ওপর চড়ে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন খোদ বিধায়ক।
ওন্দার গোগড়া থেকে শুরু হয়ে ওন্দা বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত এই ভিড়ে ঠাসা মিছিলে বিজেপির পতাকায় সুসজ্জিত বুলডোজারটি নজর কেড়েছে সবার। জেলাজুড়ে বিজেপির এই বিপুল জয়ের আনন্দ উদযাপনে শামিল হয়েছিলেন হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক। তবে উৎসবের আবহের মাঝেই বিধায়কের রাজনৈতিক বার্তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
যোগী-হিমন্ত মডেলের হুঁশিয়ারি
মিছিল চলাকালীন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ওন্দার বিধায়ক অমরনাথ শাখা স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই বুলডোজার কেবল উদযাপনের মাধ্যম নয়, এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা। তিনি দাবি করেন, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার শাসনামলে যেভাবে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গও সেই একই মডেলে চলবে। ওন্দার জনতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি হুঙ্কার দেন, বাংলায় আগামী দিনে বেআইনি কার্যকলাপ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে এভাবেই বুলডোজার চালানো হবে।
তৃণমূলের দুর্গে ধস ও বুলডোজার রাজনীতির প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ২০২৬ সালের নির্বাচনেও বাঁকুড়া জেলাকে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে ধরে রাখতে সফল হয়েছে বিজেপি। এবার বাঁকুড়া জেলার ১২টি বিধানসভা আসনেই ঘাসফুল শিবির খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে, যা বিজেপির মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে রাজ্যে কোনো বেআইনি নির্মাণ থাকলে সেখানে বুলডোজার চালানো হবে, যার প্রতিফলন ইতিমধ্যেই কলকাতার তোপসিয়া ও তিলজলার মতো এলাকায় দেখা গেছে। ওন্দার এই বুলডোজার মিছিল মূলত মুখ্যমন্ত্রীর সেই কড়া অবস্থান এবং উত্তর ভারতের ‘বুলডোজার রাজনীতি’র সংস্কৃতিকে বাংলায় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা। এই ঘটনা আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং প্রশাসনিক সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
