ক্যামেরা নয় এবার তুলির টান, বাঙালি বিয়েতে তুমুল জনপ্রিয় ‘লাইভ ওয়েডিং পেন্টিং’ – এবেলা

ক্যামেরা নয় এবার তুলির টান, বাঙালি বিয়েতে তুমুল জনপ্রিয় ‘লাইভ ওয়েডিং পেন্টিং’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ডিজিটাল দুনিয়ায় হাজারো ছবির ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে আবেগের গভীরতা। পেনড্রাইভ ক্র্যাশ করা কিংবা হার্ডডিস্ক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কার মাঝেই বিয়ের আসরে জায়গা করে নিচ্ছে এক অনন্য শিল্পকলা। সানাই, উলুধ্বনি আর সাতপাকের চেনা আবহে ফটোগ্রাফারের লেন্সের পাশাপাশি এখন দেখা মিলছে শিল্পীর ইজেলের। ইউরোপের রাজকীয় বিয়ে এবং তারকাদের মণ্ডপ ঘুরে ‘লাইভ ওয়েডিং পেন্টিং’-এর এই নতুন ট্রেন্ড এখন মধ্যবিত্ত বাঙালি বিয়েতেও তুমুল সাড়া ফেলেছে।

বিয়ের আসরে জীবন্ত ক্যানভাস

লাইভ ওয়েডিং পেন্টিং হলো বিয়ের মূল অনুষ্ঠান চলাকালীন মণ্ডপে বসেই সম্পূর্ণ ঘটনাটিকে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা। সাধারণত বিয়ের আগেই বর-কনে শিল্পীর সাথে আলোচনা করে একটি বিশেষ মুহূর্ত বা ‘হিরো মোমেন্ট’ বেছে নেন। সেটি হতে পারে মালাবদল, সিঁদুরদান, সাতপাক কিংবা কাপল এন্ট্রি। বিয়ের মূল মণ্ডপের এক কোণে দাঁড়িয়ে শিল্পী চার থেকে ছয় ঘণ্টা ধরে অ্যাক্রিলিক বা অয়েল মিডিয়ামে লাইভ দেখে দেখে সেই দৃশ্যটি আঁকেন। আমন্ত্রিত অতিথিরাও বিয়ের পাশাপাশি ক্যানভাসে ছবি ফুটে ওঠার এই লাইভ এন্টারটেইনমেন্ট উপভোগ করার সুযোগ পান। অনেক ক্ষেত্রে শিল্পী মূল কাজ ভেন্যুতে শেষ করে বাকি ফিনিশিং স্টুডিওতে করেন এবং রিসেপশন শেষে ফ্রেমসহ ক্যানভাসটি নবদম্পতির হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ফটোগ্রাফি থাকতে পেন্টিং কেন

আধুনিক বিয়েতে ওয়েডিং প্ল্যানার এবং দম্পতিদের কাছে এই লাইভ পেন্টিং এখন অন্যতম পছন্দের তালিকায় উঠে এসেছে। এর মূল কারণ হলো স্থায়িত্ব এবং আবেগ। ডিজিটাল ছবি বা প্রযুক্তিগত ফাইল যেকোনো সময় হারিয়ে যেতে পারে, কিন্তু একটি ভালো ক্যানভাস প্রায় ৫০ থেকে ১০০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়, যা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পারিবারিক ঐতিহ্য বা হেরিটেজ পিস হিসেবে থেকে যায়। ক্যামেরা যেখানে বাস্তব দৃশ্যটি হুবহু তুলে ধরে, শিল্পী সেখানে নিজের অনুভূতি দিয়ে অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়িয়ে আলোর কাজ বাড়িয়ে বর-কনের অভিব্যক্তিকে আরও ফুটিয়ে তোলেন। ফলে এটি কেবল একটি ছবি না হয়ে একটি গল্পে পরিণত হয়। পাশাপাশি, বিয়ের আসরে আগত অতিথিদের জন্য এটি একটি দারুণ আকর্ষণ ও সেলফি জোন হিসেবে কাজ করে।

বাজেট এবং বুকিংয়ের সাতকাহন

লাইভ ওয়েডিং পেন্টিংয়ের বাজার এখন বেশ বৈচিত্র্যময়। ন্যূনতম ১৫ হাজার থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন প্যাকেজে এই পরিষেবা মিলছে। সাধারণ প্যাকেজে ছোট ক্যানভাস এবং সীমিত ফিগার থাকলেও লাক্সারি প্যাকেজে বড় ক্যানভাসে তেলরঙে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয় মণ্ডপের আবহসহ ১০-১২ জন অতিথির ছবি। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় এই শিল্পের চাহিদা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই পরিষেবা নেওয়ার আগে শিল্পীর কাজের ধরন যাচাই করা, অন্তত তিন মাস আগে বুকিং করা, মণ্ডপে শিল্পীর জন্য পর্যাপ্ত আলো ও জায়গার ব্যবস্থা করা এবং ফটোগ্রাফারদের সাথে সমন্বয় করিয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। দিন শেষে বিয়ে এক দিনের হলেও, দেওয়ালে টাঙানো এই লাইভ পেন্টিং স্মৃতির পাতায় বেঁচে থাকে আজীবন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *