রাজ্যের মন্ত্রী হয়ে সস্ত্রীক গ্রামের বাড়িতে দিলীপ, ঝাড়গ্রামে উৎসবের মেজাজ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নিজের চেনা ছকের বাইরে গিয়ে রাজনীতি করা এবং স্পষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের মন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম সস্ত্রীক নিজের গ্রামের বাড়িতে ফিরলেন। রবিবার ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরের কুলিয়ানা গ্রামে তিনি পা রাখতেই গোটা এলাকায় এক উৎসবের মেজাজ তৈরি হয়। দীর্ঘ আন্দোলনের পর তাঁর এই রাজনৈতিক উত্থান ও মন্ত্রীত্ব লাভকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
গ্রামের ছেলেকে বরণ করতে কুলিয়ানা গ্রামের প্রবেশদ্বারে একটি বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নবনিযুক্ত মন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পর ঘরের ছেলেকে কাছে পেয়ে গ্রামবাসীরা তাঁকে ঘিরে ধরেন।
মন্দিরে পুজো ও ভূরিভোজের আয়োজন
গ্রামে পৌঁছেই দিলীপ ঘোষ সস্ত্রীক প্রথমে কুলিয়ানার ঐতিহাসিক জগন্নাথ মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন। এরপর তাঁরা স্থানীয় একটি শিব মন্দিরেও পুজো অর্চনা করেন। মন্ত্রীর আগমন এবং এই খুশির আবহকে স্মরণীয় করে রাখতে মন্দিরে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে লাড্ডু বিতরণ করেন গ্রামবাসীরা। দুপুরে কুলিয়ানায় দিলীপ ঘোষের পৈতৃক বাড়িতে গ্রামবাসীদের জন্য এক বিশাল ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। মধ্যাহ্নভোজের মেনুতে ছিল সাদা ভাত, কুমড়োর তরকারি, খাসির মাংস অথবা মাছ এবং আমের চাটনি। খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের চেনা মানুষদের সাথে গল্প ও আড্ডায় মেতে ওঠেন মন্ত্রী।
উন্নয়নের বার্তা ও রাজনৈতিক প্রভাব
তৃণমূল স্তরের রাজনীতি থেকে উঠে আসা দিলীপ ঘোষের এই নতুন দায়িত্ব প্রাপ্তি জঙ্গলমহলের রাজনীতিতে এক বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় অবহেলিত জঙ্গলমহলের গ্রামীণ পরিকাঠামো ও সামগ্রিক উন্নয়নে গতি আসবে বলে আশাবাদী স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
গ্রামের মানুষের এই বিপুল উদ্দীপনা দেখে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, এতদিন রাজনৈতিক স্বার্থে গ্রামীণ স্তরে নানা অনিয়ম হয়েছে এবং রাজ্যবাসীর উপর শোষণ চলেছে। নতুন সরকার এই সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জঙ্গলমহলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত এবং তাঁদের ঘরের ছেলে মন্ত্রী হওয়ায় এখন এলাকার বঞ্চনা দূর হওয়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
