আজ থেকেই শুরু ‘অধিক মাস’! ভুলেও করবেন না এই ভুলগুলো, জেনে নিন জরুরি নিয়ম – এবেলা

আজ থেকেই শুরু ‘অধিক মাস’! ভুলেও করবেন না এই ভুলগুলো, জেনে নিন জরুরি নিয়ম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দীর্ঘ তিন বছরের বিরতি কাটিয়ে সনাতন ধর্মে অত্যন্ত পবিত্র ও অলৌকিক শক্তিসম্পন্ন হিসেবে বিবেচিত ‘অধিক মাস’ বা ‘মল মাস’ শুরু হয়েছে। জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় গণনা এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই মাসটিকে আত্মশুদ্ধি এবং আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য সর্বোত্তম সময় বলে মনে করা হয়। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, সূর্য সংক্রান্তি না থাকায় একসময় উপেক্ষিত এই মাসটিকে ভগবান শ্রীবিষ্ণু নিজের ‘পুরুষোত্তম’ নাম প্রদান করেন, যা থেকে এর নামকরণ হয় ‘পুরুষোত্তম মাস’। এই এক মাস লৌকিক ও জাগতিক সমস্ত শুভ কাজ বন্ধ থাকলেও, জপ-তপ এবং দানধ্যানের মাধ্যমে বহুগুণ পুণ্যলাভের সুযোগ তৈরি হয়।

অধিক মাসের বৈজ্ঞানিক ও জ্যোতিষীয় কারণ

সনাতন হিন্দু পঞ্জিকা মূলত সৌর বছর এবং চান্দ্র বছর—উভয় গণনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। একটি সৌর বছর প্রায় ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টার হয়ে থাকে, যেখানে চান্দ্র বছর হয় মাত্র ৩৫৪ দিনের। ফলে প্রতি বছর এই দুই গণনার মধ্যে প্রায় ১১ দিনের ব্যবধান তৈরি হয়। এভাবে তিন বছরে এই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩৩ দিনে, যা একটি সম্পূর্ণ মাসের সমান। মহাজাগতিক এই সময়ের ভারসাম্য বজায় রাখতেই প্রতি তৃতীয় বছরে পঞ্জিকায় একটি অতিরিক্ত মাস যুক্ত করা হয়, যাকে ‘অধিক মাস’ বলা হয়। এই মাসে সূর্য এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে গমন বা ‘সংক্রান্তি’ ঘটে না।

ধর্মীয় বিধি এবং বর্জনীয় কাজ

শাস্ত্র মতে, অধিক মাস মূলত ঈশ্বর আরাধনার জন্য নির্ধারিত হওয়ায় এই সময়ে জাগতিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের বেশ কিছু কাজে নিষেধাজ্ঞা থাকে। বিয়ে, উপনয়ন, গৃহপ্রবেশ, অন্নপ্রাশন বা বাগদানের মতো যেকোনো বড় শুভ অনুষ্ঠান এই মাসে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া নতুন ব্যবসা শুরু করা, জমি-জমা বা নতুন যানবাহন কেনাও এই সময়ে স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। আধ্যাত্মিক পরিবেশ বজায় রাখতে পেঁয়াজ, রসুন, আমিষ খাবার ও মদ্যপান ত্যাগ করে সম্পূর্ণ সাত্ত্বিক জীবনযাপন করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কারও নামে নিন্দা করা, মিথ্যা বলা বা ক্রোধের বশবর্তী হওয়া এই সময়ে মহাপাপ হিসেবে গণ্য হয়।

পুণ্যলাভের জন্য করণীয় নিয়ম

পুরুষোত্তম মাসে নিবেদিত উপাসনার ফল কখনো নষ্ট হয় না। এই সময়ে প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বার, তুলসী তলা এবং নিকটস্থ উপাসনালয়ে দীপদান করলে নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং সমৃদ্ধি আসে। প্রতিদিন শ্রীবিষ্ণুর মহামন্ত্র জপ এবং ভাগবত গীতা পাঠ করা এই সময়ে অত্যন্ত শ্রেয়স্কর। শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী দানাশস্য, বস্ত্র বা সাধ্যমতো দরিদ্রদের অন্নদান করলে জাতকের বহু দোষ কেটে যায়। সর্বোপরি, এই মাসটি জাগতিক ইচ্ছা পূরণের নয়, বরং আত্মাকে পরমাত্মার সঙ্গে যুক্ত করার এক মহতী সুযোগ এনে দেয়।

এক ঝলকে

  • চন্দ্র ও সৌর বছরের মধ্যে তৈরি হওয়া ১১ দিনের বার্ষিক ব্যবধান দূর করতে প্রতি তিন বছর পর পর পঞ্জিকায় ‘অধিক মাস’ যুক্ত করা হয়।
  • এই মাসে সূর্য সংক্রান্তি না থাকায় একে ‘মল মাস’ বলা হলেও, ভগবান বিষ্ণুর নামানুসারে এর আধ্যাত্মিক নাম ‘পুরুষোত্তম মাস’।
  • মাসজুড়ে বিয়ে, গৃহপ্রবেশের মতো সব ধরনের সামাজিক শুভ অনুষ্ঠান এবং নতুন সম্পদ বা যানবাহন কেনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে।
  • পুণ্য অর্জনের জন্য এই সময়ে সাত্ত্বিক জীবনযাপন, নিয়মিত দীপদান, বিষ্ণু মন্ত্র জপ এবং অভাবী মানুষকে দানধ্যান করার বিধান রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *