আরজি কর কাণ্ডে এবার খোদ সিবিআই অফিসারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, তদন্তের জোরালো দাবি – এবেলা
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/17/abhijit-gangopadhyay-demands-probe-against-cbi-officer-seema-pahuja-in-rg-kar-case-2026-05-17-09-50-58.jpg)
এবেলা ডেস্কঃ
আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলার তদন্ত নিয়ে এবার এক নজিরবিহীন ও বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তমলুকের বিজেপি সাংসদ তথা কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এই মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা সিবিআই-এর সিনিয়র সুপারিন্টেনডেন্ট সীমা পাহুজার বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতি ও তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে রাজ্য সরকারের নির্দেশে আরজি কর কাণ্ডের যে নতুন তদন্ত শুরু হয়েছে, তাতে এই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী অফিসারকে ‘অভিযুক্ত’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জোরালো আর্জি জানিয়েছেন প্রাক্তন বিচারপতি।
বিজেপি সাংসদের অভিযোগ, আরজি কর হাসপাতালের ভেতরে থাকা একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ ও সূত্র খতিয়ে দেখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। এই গাফিলতি কোনো সাধারণ বিষয় নয়, বরং এর পেছনে তথ্য গোপনের একটি বড় চক্রান্ত কাজ করছে বলে তিনি মনে করছেন।
ভিডিও মুছে ফেলার অভিযোগ ও বন্ধ ঘরের রহস্য
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে চিকিৎসকদের পোশাক পরে আরজি করের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করতে দেখা যায়। হাসপাতালের একটি সিঁড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, ঘটনার রাতে কিছু মানুষ এই সিঁড়ি দিয়ে ‘ভারী কিছু’ নিচে নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল এবং হাসপাতালের এক নার্স সেই ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন। সাংসদের অভিযোগ, সিবিআই ওই নার্সের কাছ থেকে ভিডিওটি নিয়ে নেয় এবং সেটি মুছে ফেলতে বাধ্য করে, যা আজ পর্যন্ত তদন্তে সামনে আনা হয়নি। তদন্তকারী অফিসার সীমা পাহুজা ইচ্ছাকৃতভাবে সেই ভিডিওটি লুকিয়ে রেখেছেন বলে তাঁর দাবি।
এখানেই শেষ নয়, হাসপাতালের একটি তালাবন্ধ ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি অভিযোগ করেন, গত দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা ওই ঘরের ভেতরে ব্লেড এবং রক্তমাখা গ্লাভস পড়ে থাকার তথ্য মেলা সত্ত্বেও সিবিআই আজ পর্যন্ত ঘরটি খুলেও দেখেনি। ওই ঘরটি খুললে অনেক চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি জানান। এই সমস্ত বিষয়কে তদন্তের আওতায় না আণাকেই সীমা পাহুজার চরম গাফিলতি ও তথ্য গোপনের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই বিস্ফোরক অভিযোগের মূল কারণ হলো, আরজি কর মামলার মূল তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই তৈরি হওয়া অসন্তোষ। বিশেষ সিবিআই আদালত মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার সময় তদন্তকারী অফিসার সীমা পাহুজার বয়ানকে গুরুত্ব দিয়েছিল, যেখানে সেমিনার হলটিকেই মূল ঘটনাস্থল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে আন্দোলনকারী চিকিৎসক ও ওয়াকিবহাল মহলের একটি বড় অংশ বরাবরই এই তদন্তে আরও অনেকের যুক্ত থাকার এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিলেন। প্রাক্তন বিচারপতির এই নতুন দাবি সেই আশঙ্কাকে আরও উস্কে দিল।
এই ঘটনার প্রভাব রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে। রাজ্যে সদ্য গঠিত নতুন সরকার আরজি কর কাণ্ডের পুনরায় তদন্ত শুরু করার পর ইতিমধ্যেই গাফিলতির অভিযোগে তিন শীর্ষ আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করেছে। এই আবহে একজন বিজেপি সাংসদ খোদ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অফিসারের ভূমিকাকে কাঠগড়ায় তোলায় সিবিআই-এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এর ফলে আদালতের নজরদারিতে চলা এই স্পর্শকাতর মামলার আইনি গতিপ্রকৃতি এবং রাজ্য ও কেন্দ্রের তদন্তকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয় আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।
