‘সময় শেষ, দ্রুত সিদ্ধান্ত নাও নাহলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে’: ইরানকে ট্রাম্পের শেষ আলটিমেটাম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আরব দুনিয়ার রণক্ষেত্রে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ইরানকে সরাসরি যুদ্ধের চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউরেনিয়াম মজুত ও যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা যখন সম্পূর্ণ ব্যর্থতার মুখে, ঠিক তখনই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরানকে সতর্ক করেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে ইরানের হাতে আর সময় নেই এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে দেশটি সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই অনমনীয় মনোভাবের কারণে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।
শর্তের বেড়াজাল ও পরমাণু সংকট
এই সংঘাতের মূল কারণ আমেরিকা ও ইরানের একে অপরের ওপর চাপানো কঠিন শর্তাবলী। ওয়াশিংটন দাবি করেছে যে ইরানকে তাদের ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সমর্পণ করতে হবে, মাত্র একটি পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র সচল রাখতে হবে এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদের দাবি আপাতত ত্যাগ করতে হবে। অন্যদিকে তেহরান এই শর্ত খারিজ করে পাল্টা দাবি তুলেছে যে আরব দুনিয়ায় মার্কিন সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে, সমস্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিতে হবে। কোনো পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে না নড়ায় কূটনৈতিক আলোচনা এখন পুরোপুরি স্থবির।
ভূ-রাজনীতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই সংকটের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কড়া নজরদারি এবং মার্কিন নৌ-অবরোধের পাল্টাপাল্টি চেষ্টায় বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ হুমকির মুখে পড়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেছেন যে আমেরিকা ও ইজরায়েল মিলিতভাবে ইরানে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে জঙ্গি গোষ্ঠীকে মদত দিচ্ছে। যদিও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অতীতে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তবে বর্তমানে ইরান তাদের যুদ্ধবিমান পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিতে সরিয়ে নিয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক হুমকির ফলে দুই দেশের মধ্যে যেকোনো সময় বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সমগ্র আরব অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
এক ঝলকে
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরেনিয়াম ইস্যুতে ইরানকে দ্রুত পদক্ষেপ করার জন্য সরাসরি যুদ্ধের চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
- আমেরিকা ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সমর্পণের শর্ত দিয়েছে, অন্যদিকে ইরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও মার্কিন সামরিক অভিযান বন্ধের পাল্টা দাবি করেছে।
- ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ওয়াশিংটন ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
- কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধ এবং দুই পক্ষের অনমনীয়তায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সংকটের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
