‘ক্ষোভ থাকলে মুখে নয়, লিখে জানান চন্দ্রিমাকে!’ কালীঘাটের বৈঠকে কড়া বার্তা মমতার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বাড়তে থাকা অসন্তোষ ও প্রকাশ্য কোন্দল রুখতে এবার কড়া অবস্থান নিলেন দলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের অন্দরের ক্ষোভ যাতে কোনোভাবেই প্রকাশ্য রূপ না নেয়, সেই লক্ষ্যে কালীঘাটের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। দলীয় সূত্রের খবর, জেলা পরিষদ সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত ওই বৈঠকে তৃণমূলনেত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, নির্বাচনে হারের কারণ বা নেতৃত্ব নিয়ে কারও মনে কোনো ক্ষোভ থাকলে তা প্রকাশ্যে না বলে লিখিত আকারে দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সদস্য চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে জমা দিতে হবে।
নির্বাচনে ২০৭টি আসন পেয়ে বিজেপি রাজ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে চিল চিৎকার ও ভাঙনের সুর চড়ছিল। দীর্ঘ শাসনের পর মাত্র ৮০টি আসনে থমকে গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দলেরই একটা বড় অংশ বর্তমান নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছিলেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, দলের বেশ কয়েকজন মুখপাত্রও প্রকাশ্যে দলবিরোধী মন্তব্য শুরু করেন, যার জেরে ইতিমধ্যে তিনজনকে ছয় বছরের জন্য দল থেকে নিলম্বিত করা হয়েছে। রবিবারের বৈঠক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকারান্তরে এই বার্তাই দিলেন যে, শৃঙ্খলাভঙ্গ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
তৃণমূলের ভবিষ্যৎ কৌশল ও জেলা পরিষদের গুরুত্ব
রাজ্যের শাসনভার হারালেও জেলা পরিষদগুলি এখনও তৃণমূলের দখলেই রয়েছে। আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই দুর্গগুলি কীভাবে বাঁচানো সম্ভব, তা নিয়েই মূলত রবিবারের বৈঠকে আলোচনা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্য কোন্দল রুখতে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো প্রবীণ নেত্রীর হাতে অভিযোগ জমা দেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে একদিকে যেমন কর্মীদের ক্ষোভ প্রকাশের গণতান্ত্রিক পথ খোলা রাখা হলো, অন্যদিকে তেমনই দলের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ নিজেদের হাতে রাখলেন শীর্ষ নেতৃত্ব। বৈঠক শেষে দলের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক দিয়ে জানানো হয়েছে, রাজ্যের শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় তারা আগামী দিনেও একসঙ্গে কাজ করবেন।
এক ঝলকে
- বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র ৮০টি আসন পেয়ে তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দলের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
- দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোনো ক্ষোভ থাকলে তা প্রকাশ্যে না এনে লিখিতভাবে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- দলবিরোধী মন্তব্যের জেরে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের তিন মুখপাত্রকে ছয় বছরের জন্য দল থেকে নিলম্বিত করা হয়েছে।
- ক্ষমতা হারালেও জেলা পরিষদগুলি এখনও তৃণমূলের অধীনে থাকায়, সেগুলিকে ধরে রেখে আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করাই এখন শীর্ষ নেতৃত্বের প্রধান লক্ষ্য।
