মস্কোয় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় প্রাণ হারালেন ভারতীয় কর্মী, রণক্ষেত্রের আঁচ এবার প্রবাসীদের গায়ে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আঁচ এবার এসে লাগল প্রবাসী ভারতীয়দের গায়ে। রবিবার গভীর রাতে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো এবং তার সংলগ্ন এলাকায় ইউক্রেনের চালানো এক ভয়াবহ ড্রোন হামলায় এক প্রবাসী ভারতীয় শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন আরও তিন ভারতীয় কর্মী। যুদ্ধের ইতিহাসে এই প্রথম মস্কোর বুকে কোনো ভারতীয় নাগরিকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটল, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ঘটনার পরপরই রাশিয়ার ভারতীয় দূতাবাসের প্রতিনিধিরা দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন। দূতাবাসের পক্ষ থেকে নিহত শ্রমিকের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে আহতদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
রাতভর ড্রোন হামলা ও ক্ষয়ক্ষতি
রবিবার রাতভর মস্কো এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোকে লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ছাড়ে ইউক্রেনীয় বাহিনী। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, বিগত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে প্রায় এক হাজারেরও বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু মস্কোর দিকে ধেয়ে আসা ৮১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে রাজধানীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ আবাসিক এলাকায় আছড়ে পড়ায় খিমকি এলাকায় এক নারী এবং মিতিশ্চি জেলার পোগোরেলকি গ্রামে আরও দুই রুশ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। ভারতীয় কর্মীসহ এই হামলায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার জনে। এছাড়া মস্কোর একটি তেল শোধনাগারের কাছে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেলেও সেটির ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে বলে দাবি করেছে রুশ প্রশাসন।
পাল্টা জবাব ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছেন, সম্প্রতি কিয়েভে রাশিয়ার চালানো বড়সড় হামলার পাল্টা জবাব দিতেই এই সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করে ৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি অভ্যন্তরে আঘাত হানার সক্ষমতা প্রদর্শন করাই ছিল এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে, রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বিগত চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে উভয় পক্ষ সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু না করার দাবি করলেও, বাস্তব ক্ষেত্রে বারবার আবাসিক এলাকা ও অসামরিক পরিকাঠামোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার সর্বশেষ শিকার হলেন এই ভারতীয় নাগরিক।
