ডার্বি ড্র করে শীর্ষেই থাকল ইস্টবেঙ্গল, সুযোগ থাকল মোহনবাগানের সামনেও – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা ডার্বির রোমাঞ্চ ছুঁয়ে গেল ফুটবলপ্রেমীদের, তবে মাঠের লড়াই শেষে অমীমাংসিতভাবেই শেষ হলো মহাযুদ্ধ। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান সুপার জায়েন্টের হাইভোল্টেজ ম্যাচটি ড্র হওয়ায় লিগ টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রাখল লাল-হলুদ ব্রিগেড। পয়েন্টের বিচারে দুই দল সমান অবস্থানে থাকলেও গোল পার্থক্যে এগিয়ে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। ফলে লিগ জয়ের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে দুই দলকেই।
সুযোগ নষ্টের মহড়া ও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে দেখা গেছে গোল করার মরিয়া তাগিদ। বিশেষ করে মোহনবাগান শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে গোল তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। ম্যাচের ২৪ মিনিটে অনিরুদ্ধ থাপার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এর কিছুক্ষণ পর ৩৬ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে একক দক্ষতায় বক্সে ঢুকেও গোল করতে ব্যর্থ হন সবুজ-মেরুন উইঙ্গার লিস্টন কোলাসো। প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গল কিছুটা সময় নিলেও তুলনামূলক সহজ সুযোগ তৈরি করেছিল তারাই, যার মধ্যে সোজবার্গের একটি জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও সুযোগ নষ্টের ধারা বজায় থাকে। শুভাশিস বসুর ভুলে বক্সের মধ্যে ফাঁকা বল পেয়েও বারের ওপর দিয়ে ভাসিয়ে দেন বিপিন সিং। পরে জিকসনের থ্রু বল ধরে গোলরক্ষককে একা পেয়েও শট নিতে দেরি করায় আরও একটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি।
এডমুন্ডের চমক ও কামিন্সের জবাব
ম্যাচের ডেডলক ভাঙেন ইস্টবেঙ্গলের এডমুন্ড। স্ট্র্যাটেজিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এজ্জেজারি ও এডমুন্ডকে মাঠে নামানোর পরেই লাল-হলুদের আক্রমণের ধার বাড়ে। প্রভসুখনের লম্বা বল ইউসেফ ও মিগুয়েল হয়ে বক্সের মধ্যে পৌঁছালে চলতি বলেই দুর্দান্ত শটে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন এডমুন্ড। তবে লিড বেশিদিন ধরে রাখতে পারেনি তারা। কর্নার থেকে দিমিত্রি পেত্রাতোসের মাপা শটে ব্যাক হেডে গোল করে মোহনবাগানকে সমতায় ফেরান অজি স্ট্রাইকার জেসন কামিন্স। শেষদিকে লিস্টন কোলাসোর একটি ফ্রি-কিক অল্পের জন্য বাইরে চলে গেলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় দুই প্রধানকে।
শিরোপা লড়াইয়ের সম্ভাব্য সমীকরণ
এই ড্রয়ের ফলে লিগের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে ইস্টবেঙ্গল। তবে ট্রফি জয়ের সুযোগ সমানভাবে টিকে রইল মোহনবাগান সুপার জায়েন্টের সামনেও। দুই দলেরই পরবর্তী তথা শেষ ম্যাচটি এখন টুর্নামেন্টের ফাইনাল রূপ নিয়েছে, যেখানে জয় ভিন্ন অন্য কোনো পথ খোলা নেই কারোরই। প্রথম থেকেই ফরোয়ার্ড লাইনের খামতি ও ফিনিশিংয়ের দুর্বলতার কারণে দুই দলকেই পয়েন্ট নষ্টের খেসারত দিতে হলো, যা আগামী ম্যাচের আগে কোচদের নতুন করে ভাবাবে।
