সময় ফুরিয়ে আসছে ইরানের, ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের মেঘ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আমেরিকার দেওয়া শর্ত মেনে স্থায়ী চুক্তিতে না পৌঁছালে ইরানকে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানকে কার্যত ডেডলাইন বেঁধে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং এখনই দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে ইরানের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। আপাতত দুই দেশের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও ট্রাম্পের এই বার্তার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক ও রণকৌশল
কূটনৈতিক মহলের উদ্বেগ বাড়িয়ে সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠক করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানা গেছে, এই আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েলের পরবর্তী যৌথ রণকৌশল। ট্রাম্পের নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এই হুমকির পর বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান যদি ওয়াশিংটনের শর্ত মানতে অস্বীকার করে, তবে যৌথভাবে ইরানের মাটিতে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হতে পারে। এর আগে এপ্রিলের শুরুতেও ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে তাদের সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পূর্বের সেই অনমনীয় অবস্থানেই অনড় রয়েছে হোয়াইট হাউস।
আমেরিকার ৫ শর্ত ও যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ
স্থায়ী শান্তিস্থাপনের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন তেহরানের সামনে যে ৫টি শর্ত রেখেছে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন চলছে। শর্তানুযায়ী, ইরানকে কেবল একটি পরমাণু ঘাঁটি চালু রাখার অনুমতি দেওয়া হবে এবং তাদের প্রায় ৪০০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে। বিনিময়ে আমেরিকা ইরানের বাজেয়াপ্ত করা বৈদেশিক সম্পদের মাত্র ২৫ শতাংশ ফেরত দেবে। তবে যুদ্ধের কারণে ইরান যে বিপুল আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছিল, তা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে আমেরিকা।
তেহরানের পক্ষ থেকে এই শর্তগুলোর ব্যাপারে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ইরানের দাবিগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্পের সাফ কথা, বর্তমান যুদ্ধবিরতি এখন কার্যত ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। ফলে ইরান যদি দ্রুত আমেরিকার শর্ত মেনে না নেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ ও চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
