শান্তনু গ্রেপ্তার হতেই স্ত্রীকে নিয়ে ইডি দপ্তরে সোনা পাপ্পু, পুর মামলায় হাজিরা পাঁচু রায়ের – এবেলা

শান্তনু গ্রেপ্তার হতেই স্ত্রীকে নিয়ে ইডি দপ্তরে সোনা পাপ্পু, পুর মামলায় হাজিরা পাঁচু রায়ের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসিপি শান্তনু সিনহা গ্রেপ্তার হতেই জমি দুর্নীতি ও প্রতারণা মামলায় নাটকীয় মোড় নিলো। গোলপার্কের কাঁকুলিয়া বোমা-গুলি কাণ্ডের পর থেকে দীর্ঘদিন বেপাত্তা থাকার পর, অবশেষে আজ সোমবার সল্টলেকের ইডি দপ্তরে সস্ত্রীক হাজিরা দিলেন মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দার। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) একের পর এক নোটিস এড়িয়ে যাওয়ার পর, প্রাক্তন পুলিশ কর্তার গ্রেপ্তারি সোনা পাপ্পুর ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়িয়েছিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে দপ্তরে ঢোকার মুখে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্বজিৎ দাবি করেন, তিনি কোনো অন্যায় করেননি এবং তদন্তে সহযোগিতা করতেই এসেছেন।

টাকা উদ্ধার ও হাওয়ালাযোগের সূত্র

ভোটের আগে কাঁকুলিয়া কাণ্ডের পর থেকেই সোনা পাপ্পু রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন, যদিও মাঝেমধ্যেই তাঁকে সমাজমাধ্যমে লাইভ করতে দেখা যেত। এর মাঝেই জমি দুর্নীতি ও প্রতারণা মামলার তদন্তে নেমে পাপ্পুর বাড়িতে হানা দেয় ইডি। সেখান থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ কয়েক কোটি টাকা নগদ উদ্ধার হয়। এই ঘটনার সূত্র ধরেই তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী জয় কামরা এবং কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসিপি শান্তনু সিনহাকে জেরা ও পরবর্তীতে গ্রেপ্তার করে কেন্দ্রীয় সংস্থা। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের সঙ্গে সোনা পাপ্পুর সরাসরি যোগাযোগ ও মোটা অঙ্কের হাওয়ালাযোগের প্রমাণ মিলেছে। আজকের এই জিজ্ঞাসাবাদের ফলে এই চক্রের আর্থিক লেনদেনের মূল উৎস এবং নেপথ্যে থাকা অন্যান্য প্রভাবশালীদের নাম সামনে আসতে পারে।

পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে পাঁচু রায়ের হাজিরা

অন্য দিকে, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আজই ইডি দপ্তরে হাজিরা দিয়েছেন দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা পাঁচু রায়। এই মামলায় ধৃত রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু নতুন ও বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে ইডি গোয়েন্দাদের হাতে। সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই আজ পাঁচু রায়কে তলব করা হয়। তদন্তকারী সূত্রের খবর, প্রয়োজনে সুজিত বসুর মুখোমুখি বসিয়েও তাঁকে জেরা করা হতে পারে।

বেনিয়মের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

অভিযোগ রয়েছে, পাঁচু রায় যখন দক্ষিণ দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান পদে ছিলেন, তখন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের চাকরি দেওয়া হয়েছিল। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কয়েক কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আবহে একদিকে জমি দুর্নীতি ও অন্যদিকে পুর নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে ইডির এই জোড়া তৎপরতা রাজ্যের শাসক শিবিরের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিল। শান্তনু সিনহা ও সুজিত বসুর বয়ানের ওপর ভিত্তি করে আগামী দিনে আরও বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরে আসতে পারেন, যা সামগ্রিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *