কমিশনারহীন রাজ্য নির্বাচন কমিশন, আগামী ৯ মাসে ১২৭ পুরসভার ভোট নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে নবান্ন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর বকেয়া পুরভোট দ্রুত সম্পন্ন করতে চাইছে নতুন রাজ্য সরকার। তবে আগামী ৯ মাসের মধ্যে রাজ্যের ১২টি জেলার ১৫টি নির্বাচনহীন পুরসভা এবং মেয়াদ ফুরোতে চলা ১১২টি পুরসভা মিলিয়ে মোট ১২৭টি পুরসভার নির্বাচন আয়োজন করা নতুন প্রশাসনের জন্য এক বিশাল পরীক্ষা। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ভোটহীন থাকা হাওড়া পুরসভা-সহ একাধিক পুরসভায় ভোট করানোর প্রস্তুতি শুরু হলেও, এই মুহূর্তে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ পদগুলি শূন্য থাকায় গোটা প্রক্রিয়া নিয়েই বড়সড় প্রশাসনিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
নেতৃত্বহীন কমিশন ও ভোটের ভবিষ্যৎ
নির্বাচন আয়োজনের পথে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পরিকাঠামোগত শূন্যতা। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে রাজীব সিংহ সরে যাওয়ার পর এখনও নতুন কমিশনার নিয়োগ করা হয়নি। শুধু তাই নয়, সচিব নীলাঞ্জন শাণ্ডিল্যের অবসরের পর সচিব পদটিও খালি রয়েছে। এমনকি যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কোনো আধিকারিকও বর্তমানে কমিশনে নেই। শীর্ষ স্তরের কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া এত বড় যজ্ঞ কীভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে নবান্নের অন্দরেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, নতুন কমিশনার ও আধিকারিক নিয়োগ না করে ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি করা আসাম্ভব।
বকেয়া পুরভোট ও রাজনৈতিক তৎপরতা
বর্তমানে রাজ্যের ১৫টি পুরসভায় কোনো নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই, যা চলছে সরকারি প্রশাসক বসিয়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হাওড়া পুরসভা, যেখানে ২০১৭ সালের পর সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও আইনি জটিলতায় দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ভোট হয়নি। এছাড়া দুর্গাপুর, হলদিয়া, রায়গঞ্জ, ধূপগুড়ি, ডোমকল, কালিম্পং ও বালির মতো পুরসভাগুলিরও শেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৭ সালে।
সম্প্রতি মন্ত্রিসভা গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের মধ্যে হাওড়া-সহ সমস্ত বকেয়া পুরভোট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। রাজ্য সরকার আগামী ডিসেম্বর মাসে কলকাতা পুরসভার নির্বাচনের সময়েই এই ১৫টি আটকে থাকা পুরসভার ভোট সেরে ফেলতে আগ্রহী। তবে কমিশনের শূন্যপদ পূরণের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে পুজো বা শীতের আগে এই ভোটপ্রক্রিয়া শুরুর সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ।
সামনে ১২৭ পুরসভার মহাসংগ্রাম
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজ্যের বাকি ১১২টি পুরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেগুলির মেয়াদ আগামী বছরের (২০২৭) গোড়ার দিকেই শেষ হতে চলেছে। ফলে একদিকে বকেয়া ১৫টি পুরসভা এবং অন্যদিকে মেয়াদ ফুরোতে চলা ১১২টি পুরসভা—সব মিলিয়ে আগামী ৯ মাসের মধ্যে মোট ১২৭টি পুরসভার ভোট পরিচালনা করতে হবে রাজ্যকে। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, চলতি বছরের শেষে আলাদাভাবে ভোট না করিয়ে, কমিশনের শূন্যপদগুলি দ্রুত পূরণ করে আগামী বছরের শুরুতে সবকটি পুরসভার ভোট একসাথেই করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে পারে নবান্ন। তবে তার আগে নির্বাচন কমিশনকে কর্মক্ষম করাই হবে সরকারের প্রথম ও প্রধান চ্যালেঞ্জ।
