মেয়াদ শুরুর আগেই প্রতিশ্রুতি পূরণ, বকেয়া মেটাতে বাংলায় বড় পদক্ষেপ শুভেন্দু সরকারের – এবেলা

মেয়াদ শুরুর আগেই প্রতিশ্রুতি পূরণ, বকেয়া মেটাতে বাংলায় বড় পদক্ষেপ শুভেন্দু সরকারের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নবান্নে আয়োজিত নতুন বিজেপি সরকারের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবি পূরণ করতে রাজ্যে বহুল প্রতীক্ষিত ‘সপ্তম বেতন কমিশন’ গঠনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে সোমবারের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকে আসা ঘোষণাটিকে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে একটি বড়সড় যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়িত করে নতুন সরকার কর্মচারীদের ক্ষোভ প্রশমনে বড় মাস্টারস্ট্রোক দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

কেন্দ্রীয় প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন

সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বে বাংলায় এসে সপ্তম বেতন কমিশন চালুর বিষয়ে বারংবার জোরালো সওয়াল করেছিল কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব। নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া ‘গ্যারেন্টি’ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ৪৫ দিনের মধ্যে পে কমিশন কার্যকর করার হেভিওয়েট প্রতিশ্রুতিই এবার অক্ষরে অক্ষরে পালন করল রাজ্যের নতুন সরকার। সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, কর্মচারীদের বর্তমান বেতন কাঠামো খতিয়ে দেখতে, তা সম্পূর্ণ সংশোধন ও পরিমার্জন করার লক্ষ্যেই এই কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত। আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির রূপরেখা তৈরি করতে খুব দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি গড়ে তোলা হবে।

কারণ ও সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক প্রভাব

পশ্চিমবঙ্গে এই সপ্তম বেতন কমিশন বাস্তবায়নের মূল উদ্দেশ্যই হলো রাজ্য সরকারি কর্মচারী, স্বশাসিত সংস্থার কর্মী, পেনশনভোগী এবং অন্যান্য অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন, ভাতা ও অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধাগুলোর সময়োপযোগী পুনর্বিন্যাস করা। দীর্ঘ দিন ধরে কেন্দ্রীয় হারের চেয়ে কম মহার্ঘ ভাতা এবং পুরানো বেতন কাঠামো নিয়ে রাজ্য কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছিল, যা দূর করাই এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কমিশন চালু হওয়ার ফলে মহার্ঘ ভাতা (DA), বাড়ি ভাড়া ভাতাসহ মূল বেতনের গঠন সম্পূর্ণ নতুন নিয়মে নির্ধারিত হবে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই কর্মচারীদের মাসিক আয় ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক অবস্থার এক বিপুল উন্নতি ঘটবে। একই সাথে, কর্মচারীদের বাজারে ব্যয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজ্যের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও এর একটি ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব দেখা যাবে। নতুন সরকারের এই দ্রুত ও ইতিবাচক পদক্ষেপে রাজ্য সরকারি কর্মীদের একাংশের মধ্যে ইতিমধ্যে অত্যন্ত খুশির হাওয়া লক্ষ্য করা গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *