পুরনো ফাইলের জট খুলছে, একুশের ভোট-পরবর্তী হিংসায় নতুন করে ১৮১টি এফআইআর – এবেলা

পুরনো ফাইলের জট খুলছে, একুশের ভোট-পরবর্তী হিংসায় নতুন করে ১৮১টি এফআইআর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিগত দিনে চাপা পড়ে থাকা ফাইলগুলো আবার সচল হতে শুরু করেছে। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ মহলের নির্দেশে তৎকালীন হিংসার ঘটনাগুলোর তদন্তে নজিরবিহীন তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত ৪৫৮টি নতুন তদন্তের কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে দায়ের হয়েছে ১৮১টি নতুন এফআইআর (FIR) এবং ৫৯টি এমন মামলা পুনরায় খোলা হয়েছে, যেগুলিতে ইতিপূর্বে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিয়ে ফাইল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তের এই পরিধি আরও বাড়তে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

প্রশাসনের কড়া নির্দেশ ও নতুন তদন্তের কারণ

এই আকস্মিক ও বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর, গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই তিনি পুলিশ প্রশাসনকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র নিয়ম কঠোরভাবে লাগু করার নির্দেশ দেন। বিশেষ করে ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসায় যে সমস্ত খুন ও হামলার ঘটনার সঠিক তদন্ত হয়নি, সেগুলিতে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়। হিংসার শিকার হওয়া ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকলেও তাঁরা যেন নির্ভীকভাবে অভিযোগ জানাতে এগিয়ে আসেন, পুলিশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটনার তদন্ত করবে। রাজ্যে ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তোলাবাজি, হিংসা এবং জমি দখলের মতো একাধিক অভিযোগে বিদায়ী শাসকদলের নেতাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ব্যাপক আইনগত পদক্ষেপের ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর হওয়া হিংসার অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। প্রধান বিচারপতির এজলাসে উপস্থিত হয়ে তিনি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দাবি করেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং গণনাকেন্দ্রে কারচুপির অভিযোগ এনেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে এই বিপুল সংখ্যক মামলা চালু হওয়ায় বহু হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আইনি বেড়াজালে জড়াতে পারেন। বিগত সরকারের আমলের হিংসাত্মক ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করা যেমন নতুন সরকারের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনই এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক সমীকরণে এক বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *