শাহরুখের দেবদাসকে ওভাররেটেড বলে তোপের মুখে পাকিস্তানি অভিনেত্রী দানানির – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বলিউডের ইতিহাস সৃষ্টিকারী সিনেমা ‘দেবদাস’ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে ভারত ও পাকিস্তানের নেটিজেনদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী দানানির মোবিন। সঞ্জয় লীলা বনশালি পরিচালিত এবং শাহরুখ খান অভিনীত এই কালজয়ী সিনেমাটিকে ‘ওভাররেটেড’ বলে মন্তব্য করার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে তুলকালাম চলছে।
বিতর্কের সূত্রপাত ও দানানিরের প্রশ্ন
সম্প্রতি ‘ম্যাশন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দানানিরকে প্রশ্ন করা হয়, তাঁর মতে কোন বিখ্যাত সিনেমাটি অতিরিক্ত মূল্যায়ন বা ‘ওভাররেটেড’ করা হয়েছে? জবাবে তিনি সরাসরি ২০০২ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘দেবদাস’-এর নাম নেন। সিনেমার মূল গল্প নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এই বিখ্যাত গল্পে একজন মদ্যপ এবং আত্মসম্মানহীন নারী রয়েছেন, যাকে পুরুষটি দূরে ঠেলে দেয়। ছবির জাঁকজমক, সেট ও পোশাকের প্রশংসা করলেও তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এই গল্পে মদ্যপানকে মহিমান্বিত করা হবে?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ
দানানিরের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই দুই দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৯১৭ সালের ক্লাসিক উপন্যাসের এই রূপান্তরকে একটি ‘মাস্টারপিস’ হিসেবে গণ্য করা হয়। নেটিজেনদের একাংশের মতে, সাহিত্যের ‘ট্র্যাজেডি’ বা দুঃখজনক বার্তা না বুঝেই অগভীর ও অজ্ঞতাপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। বিশেষ করে অতীতে একটি অনুষ্ঠানে দানানির নিজেই দেবদাস ছবির ‘পারো’ চরিত্রে সেজেছিলেন, যা তাঁর বর্তমান মন্তব্যকে আরও বেশি স্ববিরোধী করে তুলেছে। মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স-এ (সাবেক টুইটার) অনেকেই তাঁকে ‘অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
বক্স অফিসে ব্যর্থতা ও বিতর্কের যোগসূত্র
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্কের পেছনে দানানিরের সাম্প্রতিক ক্যারিয়ারের পরিস্থিতিও একটি বড় প্রভাব ফেলেছে। গত ৮ মে পাকিস্তানের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া তাঁর নতুন ছবি ‘মেরা লেয়ারি’ বক্স অফিসে চরমভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে। মুক্তির প্রথম দিনে মাত্র ২২টি টিকিট বিক্রি হওয়ায় অনেক প্রেক্ষাগৃহ থেকে ছবিটি নামিয়ে দিতে বাধ্য হন হল মালিকেরা। নিজের ছবির এমন ভরাডুবির মাঝেই ভারতীয় সিনেমার অন্যতম সেরা মাইলফলক নিয়ে মন্তব্য করায় বিতর্কটি আরও বড় আকার ধারণ করেছে। কালজয়ী সিনেমা নিয়ে করা নেতিবাচক মন্তব্য যে দর্শকদের কতটা আবেগপ্রবণ ও ক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে, এই ঘটনাই তার প্রমাণ।
