নবান্নে প্রশাসনিক রদবদল অব্যাহত, তিন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হলেন ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই নবান্নে প্রশাসনিক স্তরে রদবদলের ধারা অব্যাহত রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নিজের সচিবালয় ও মন্ত্রকগুলিকে ঢেলে সাজাতে শুরু করেছেন। এই প্রক্রিয়ার অঙ্গ হিসেবে এবার রাজ্যের তিন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী-ইন-চার্জ (এমআইসি)-এর ব্যক্তিগত সচিব বা প্রাইভেট সেক্রেটারি পদে তিন অভিজ্ঞ ডব্লিউবিসিএস (এগজিকিউটিভ) আধিকারিককে নিয়োগের নির্দেশ জারি করেছে নবান্ন।
সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে এই তিন আধিকারিককে দ্রুত নতুন দায়িত্বভার গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে (সিএমও) একাধিক আমলা স্তরে পরিবর্তন, প্রবীণ আধিকারিকদের অব্যাহতি এবং নতুন আইএএস নিয়োগের পর মন্ত্রীদের সচিব পদে এই রদবদল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
কারা পেলেন নতুন দায়িত্ব
নবান্নের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১৩ ব্যাচের ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক বিশ্বনাথ চৌধুরীকে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের ব্যক্তিগত সচিব করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে হুগলি জেলা পরিষদের ডেপুটি সেক্রেটারি পদে কর্মরত।
অন্যদিকে, ২০১৬ ব্যাচের ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক কৃষ্ণ চন্দ্র মুন্ডাকে আদিবাসী কল্যাণ ও উন্নয়ন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর প্রধান সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি বাঁকুড়ার খাতড়ার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন।
খাদ্য ও সমবায় দফতরের মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার ব্যক্তিগত সচিব পদে আসছেন ২০১৬ ব্যাচের আরেক ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক কৌশিক কুমার মাইতি, যিনি বর্তমানে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিস্ট্রিক্ট প্ল্যানিং অফিসার পদে কর্মরত।
প্রশাসনিক তৎপরতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন মন্ত্রীদের কাজের গতি বাড়াতে এবং মন্ত্রকগুলির কাজে আরও স্বচ্ছতা ও সমন্বয় আনতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তৃণমূল স্তরের প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তরুণ ও দক্ষ ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত সচিব পদে নিয়ে আসায় নীতি নির্ধারণ এবং সরকারি প্রকল্প রূপায়ণে গতি আসবে।
এর আগে সিএমও-তে ৭ জন ডব্লিউবিসিএস আধিকারিককে সিনিয়র ডেপুটি সেক্রেটারি এবং ২ জন আইএএস অফিসারকে যুগ্ম সচিব পদে নিয়োগ করা হয়েছিল। বিশেষ করে ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার সুরজিৎ রায়কে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে নিয়ে আসার পর রাজনৈতিক মহলে নানা চর্চা শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে, সচিবালয়ের শীর্ষ স্তর থেকে মন্ত্রীদের দফতর পর্যন্ত আমলাতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠন করে প্রশাসনকে পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে ও গতিশীল রাখাই নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
