পার্ক স্ট্রিট কাণ্ড থেকে রাজনীতির কেন্দ্রে! শুভেন্দুর ‘তুরুপের তাস’ দময়ন্তী আসলে কে? – এবেলা

পার্ক স্ট্রিট কাণ্ড থেকে রাজনীতির কেন্দ্রে! শুভেন্দুর ‘তুরুপের তাস’ দময়ন্তী আসলে কে? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতার চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণের বিচার পেতে যখন গোটা রাজ্য তোলপাড়, তখন শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী যেখানে ঘটনাটিকে ‘সাজানো’ বলে লঘু করতে চেয়েছিলেন, সেখানে দাঁড়িয়ে মাত্র কয়েক দিনে পার্ক স্ট্রিট কাণ্ডের কিনারা করেছিলেন কলকাতা পুলিশের তৎকালীন জয়েন্ট সিপি (ক্রাইম) দময়ন্তী সেন। তবে সত্য সামনে আনার পুরস্কার হিসেবে ১৯৯৬ ব্যাচের এই দুঁদে আইপিএস আধিকারিককে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের জমানায় দীর্ঘ এক দশক কার্যত ‘কোণঠাসা’ হয়ে কাটাতে হয়েছে। অবশেষে রাজনৈতিক কারণে প্রচারের আড়ালে চলে যাওয়া সেই নির্ভীক অফিসারকেই এবার মূল স্রোতে ফিরিয়ে এনে বড় চমক দিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সোমবার নবান্নে এক হাইপ্রোফাইল সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বিগত সরকারের আমলে সন্দেশখালি, কসবা কিংবা বগটুইয়ের মতো রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক মহিলা ও শিশু হেনস্থার শিকার হয়েছেন। সেই সব ঘটনার নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটির মূল চালিকাশক্তি তথা ‘মেম্বার সেক্রেটারি’ হিসেবে তদন্তের ব্যাটন তুলে দেওয়া হয়েছে আইপিএস দময়ন্তী সেনের হাতে। আগামী ১ জুন থেকে এই কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবে।

বঞ্চনার ইতিহাস ও সত্যের লড়াই

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়া মেধাবী দময়ন্তী সেন ছিলেন কলকাতা পুলিশের প্রথম মহিলা জয়েন্ট সিপি (ক্রাইম)। কিন্তু ২০১২ সালের পার্ক স্ট্রিট মামলার পর থেকেই তৎকালীন শাসকদলের সঙ্গে তাঁর দূরত্বের শুরু। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের উল্টো লাইনে হেঁটে মামলার কিনারা করার অপরাধে দ্রুত লালবাজার থেকে সরিয়ে তাঁকে ব্যারাকপুরের পুলিশ ট্রেনিং কলেজে বদলি করা হয়। পরবর্তীতে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল কমিশনার হিসেবে ফিরলেও, তৃণমূল সরকারের আমলে আর কোনও বড় মামলার তদন্তভার তাঁর হাতে দেওয়া হয়নি। মাঝে ২০২২ সালে কলকাতা হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রাজ্যের চারটি বড় ধর্ষণ মামলা এবং রসিকা জৈন মৃত্যুরহস্যের তদন্তভার দময়ন্তীর ওপর ভরসা করে তুলে দিয়েছিল। এর পর ২০২৩ সালে তাঁকে কলকাতা পুলিশ থেকে পুরোপুরি সরিয়ে রাজ্য পুলিশের এডিজি (প্রশিক্ষণ) পদে পাঠিয়ে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়।

নতুন জমানায় সম্ভাব্য প্রভাব

দীর্ঘদিন ধরে যোগ্য কাজ থেকে বঞ্চিত রাখা এবং রাজনৈতিক কারণে কোণঠাসা করে রাখার সেই ট্র্যাডিশনে এবার ইতি টানল নতুন সরকার। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপ আসলে একটি বড় ‘মাস্টারস্ট্রোক’। এর ফলে বিগত জমানায় নারীদের ওপর হওয়া অত্যাচারের ফাইলগুলি এবার নতুন করে খুলতে চলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পূর্বতন সরকারের আমলে ঢাকা পড়ে যাওয়া নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ জট খুলতেই দময়ন্তী সেনের মতো একজন নির্ভীক ও আপসহীন আধিকারিককে বেছে নেওয়া হয়েছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *