গদর বন্দরের বিনিময়ে পরমাণু সাবমেরিন, ফাঁস হল চিনের ওপর পাক সেনাপ্রধানের ব্ল্যাকমেলের গোপন ছক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়াতে চিনের সঙ্গে এক চরম দরকষাকষিতে নেমেছিল পাকিস্তান। গদর বন্দরকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করে বেজিংয়ের কাছ থেকে ‘সেকেন্ড স্ট্রাইক’ ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক পারমাণবিক সাবমেরিন হাতানোর চেষ্টা করেছিলেন পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির। মার্কিন স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ‘ড্রপ সাইট নিউজ’ পাকিস্তানের অত্যন্ত গোপনীয় সামরিক নথি পর্যালোচনা করে সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর ষড়যন্ত্রের তথ্য ফাঁস করেছে।
গদর বন্দরের টোপ ও মুনিরের কৌশল
প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০২৪ সালে চিনের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই গোপন প্রস্তাব দেন পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির। বেজিংকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে, আরব সাগরের তীরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গদর বন্দরে চিনা সেনাকে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি তৈরির অনুমতি দেওয়া হবে। তবে এর কয়েক মাস পরেই পাকিস্তান নিজের আসল রূপ দেখায়। গদর বন্দরের স্থায়ী অধিকার নিশ্চিত করার বিনিময়ে চিনের কাছে পারমাণবিক অস্ত্রবহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন (এসএসবিএন) দাবি করে বসে ইসলামাবাদ। মূলত চিনের বিপুল বিনিয়োগে তৈরি ‘চিন-পাকিস্তান ইকোনোমিক করিডোর’ (সিপিইসি) এবং গদর বন্দরের কৌশলগত অবস্থানকে হাতিয়ার করেই বেজিংকে এক প্রকার ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করেছিল পাক সামরিক নেতৃত্ব।
ব্যর্থ ব্ল্যাকমেল ও সম্ভাব্য প্রভাব
পাকিস্তানের মূল লক্ষ্য ছিল এই সাবমেরিন পেয়ে জল, স্থল ও আকাশ— তিন প্রান্ত থেকেই পারমাণবিক হামলার সক্ষমতা অর্জন করা। জলভাগের গভীরে লুকিয়ে থাকা এই সাবমেরিন শত্রুর প্রথম পারমাণবিক আঘাত এড়িয়ে পাল্টা বিধ্বংসী আক্রমণ চালাতে সক্ষম। তবে পাকিস্তানের এই অযৌক্তিক ও আকাশকুসুম দাবি শেষ পর্যন্ত মেনে নেয়নি চিন। বেজিং এই আর্জি পুরোপুরি খারিজ করে দেওয়ায় পাকিস্তানের পরমাণু শক্তি বৃদ্ধির ছক ভেস্তে গেছে। এই তথ্য ফাঁসের ফলে আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের সামরিক কূটনীতির বিশ্বাসযোগ্যতা যেমন বড়সড় ধাক্কা খেল, তেমনই চিনের সঙ্গে তাদের কৌশলগত সম্পর্কেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
