জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকরের পথে বাংলা, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি নিয়ন্ত্রণে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের এক সপ্তাহের মধ্যেই শিক্ষা ক্ষেত্রে বড়সড় রদবদল ঘটাল নতুন বিজেপি সরকার। রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়ে গেল নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি)। সোমবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্র ও রাজ্যের শিক্ষা বিভাগের মধ্যে ইতিধ্যেই এই সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিদায়ী তৃণমূল সরকারের আমলে এই শিক্ষানীতি রূপায়ণে দীর্ঘ অনীহা দেখা গেলেও, নতুন সরকার গঠনের পরপরই তা দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হলো।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি নিয়ন্ত্রণে কড়া বার্তা
কৃতীদের সংবর্ধনা মঞ্চ থেকে রাজ্যের বেসরকারি স্কুল ও কলেজগুলির একচেটিয়া ফি বৃদ্ধির প্রবণতার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি যেভাবে ফি বা অর্থ নিচ্ছে, তার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত। সাধারণ পরিবারের ছেলেমেয়েরা যাতে আর্থিক কারণে সমস্যায় না পড়ে, সেদিকে নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার বার্তা দেন, যাতে সরকারকে বিব্রত হতে হয়। ছাত্রছাত্রীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও যত্নবান হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মেধার ভিত্তিতে নয়া স্কলারশিপ ও ভাতার নতুন নিয়ম
শিক্ষাক্ষেত্রে সার্বিক সহায়তার লক্ষ্যে রাজ্যে সোমবার থেকেই চালু করা হয়েছে ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই বৃত্তির ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয় নয়, বরং মেধা এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থাকেই একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি, মঞ্চ থেকে ধর্মের ভিত্তিতে বিশেষ ভাতা প্রদানের রীতি বন্ধ করার বিষয়েও সরব হন তিনি। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও এপিজে আবদুল কালামের প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, শিক্ষার প্রসারে সরকার সবসময় তাদের পাশে রয়েছে।
দ্রুত সিদ্ধান্তের প্রভাব ও কারণ
গত ৮ মে মাধ্যমিক এবং ১৪ মে উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর মেধা তালিকার শীর্ষে থাকা ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শিক্ষা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনা এবং কেন্দ্রীয় নীতিমালার সঙ্গে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটানোই এই দ্রুত সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ। জাতীয় শিক্ষানীতি চালু হওয়ার ফলে রাজ্যের শিক্ষার্থীরা এখন জাতীয় স্তরের শিক্ষা কাঠামোর সমকক্ষ সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি নিয়ন্ত্রণে সরকারের এই কড়া অবস্থান মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পথকে আরও মসৃণ করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
