“ভাইয়ের শেষকৃত্য সেরেই ধারাভাষ্য দিন!” BCCI-এর নির্মম আচরণের বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করলেন লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণন – এবেলা

“ভাইয়ের শেষকৃত্য সেরেই ধারাভাষ্য দিন!” BCCI-এর নির্মম আচরণের বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করলেন লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভাইয়ের শেষকৃত্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধারাভাষ্য দেওয়ার চাপ! ক্রিকেট বোর্ডের চরম অসংবেদনশীলতা নিয়ে মুখ খুললেন শিবরামকৃষ্ণান

ভারতীয় ক্রিকেটের ধারাভাষ্য জগতে এক চাঞ্চল্যকর ও বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন সাবেক লেগ স্পিনার লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) নিজের ক্যারিয়ারের একটি চরম অন্ধকার অধ্যায় তুলে ধরেছেন তিনি। যেখানে প্রকাশ পেয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (বিসিসিআই) ব্রডকাস্টিং পরিচালকদের চরম অসংবেদনশীলতা এবং পেশাদারিত্বের নামে অমানবিক আচরণ। বর্ণবাদের পর এবার ব্যক্তিগত শোকের মুহূর্তেও কীভাবে তাকে হেনস্তা হতে হয়েছিল, তা নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন এই সাবেক ক্রিকেটার।

ব্যক্তিগত শোকের চেয়েও বড় ডিউটি

শিবরামকৃষ্ণান জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগে তার বড় ভাই মারা যান। বিকেলে ভাইয়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিসিসিআই-এর ব্রডকাস্টিং ডিরেক্টরের কাছ থেকে তার ফোনে একটি কল আসে। সেই মুহূর্তে তার শোক ভাগ করে নেওয়ার পরিবর্তে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, শেষকৃত্য তো শেষ, তাহলে কি তিনি পরদিন সকালের ফ্লাইট ধরে মোহালিতে ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ম্যাচে ধারাভাষ্য দিতে যেতে পারবেন? চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যেও পেশাগত দায়বদ্ধতার কারণে নিজের ব্যক্তিগত শোককে পাশে ঠেলে ধারাভাষ্য দিতে মাঠে ছুটে গিয়েছিলেন তিনি।

চরম অবহেলা ও অবসরের সিদ্ধান্ত

এই অসংবেদনশীলতার এখানেই শেষ নয়। শিবরামকৃষ্ণান জানান, পুনেতে ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় তার মা-ও মারা যান এবং তখনও তার সাথে এর চেয়েও খারাপ আচরণ করা হয়েছিল। ব্রডকাস্টিং জগতের এই নির্মম মানসিকতা এবং ক্রমাগত বর্ণবাদের শিকার হওয়ার কারণে অবশেষে তিনি ধারাভাষ্য থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২৬ সালের আইপিএল শুরুর আগেই মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। তার অভিযোগ, ওই প্রভাবশালী পরিচালক এখনো দায়িত্বে বহাল আছেন এবং বর্তমান ইন্ডাস্ট্রিতে নবাগতদের ভিড়ে তার মতো অভিজ্ঞদের প্রাপ্য সম্মান ও কাজ কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার প্রভাব ভারতীয় ক্রিকেট মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, একজন জাতীয় স্তরের সাবেক ক্রিকেটারের সাথে এমন আচরণ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভ্যন্তরীণ পরিবেশের অন্ধকার দিকটি উন্মোচন করে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, জাঁকজমকপূর্ণ ক্রিকেট ইন্ডাস্ট্রির পেছনে তারকাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত আবেগের কোনো মূল্য নেই, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ধারাভাষ্যকারদের মধ্যেও এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করতে পারে।

এক ঝলকে

  • সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণান ভাইয়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিসিসিআই-এর ব্রডকাস্টিং ডিরেক্টরের কাছ থেকে ভারত-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের ধারাভাষ্য দেওয়ার জন্য ফোন পেয়েছিলেন।
  • পুনেতে ম্যাচ চলাকালীন নিজের মায়ের মৃত্যুর সময়েও বিসিসিআই ব্রডকাস্টারদের কাছ থেকে অত্যন্ত খারাপ ও অমানবিক আচরণের শিকার হন তিনি।
  • ক্রমাগত বর্ণবাদ, অসংবেদনশীলতা এবং নবাগতদের কারণে কাজ হারানোর ক্ষোভে ২০২৬ সালের আইপিএল শুরুর আগেই ধারাভাষ্য থেকে অবসর নেন এই সাবেক লেগ স্পিনার।
  • ক্রিকেট বোর্ডের এই চরম অসংবেদনশীল আচরণ ও করপোরেট মানসিকতা ক্রীড়াঙ্গনে ধারাভাষ্যকারদের মানসিক চাপ ও পেশাদারিত্বের পরিবেশ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *