ট্রাম্পের দাবিকে বুড়ো আঙুল! গোপনে পরমাণু ও ড্রোন শক্তি বহুগুণ বাড়াচ্ছে ইরান, মার্কিন রিপোর্টে চাঞ্চল্য – এবেলা

ট্রাম্পের দাবিকে বুড়ো আঙুল! গোপনে পরমাণু ও ড্রোন শক্তি বহুগুণ বাড়াচ্ছে ইরান, মার্কিন রিপোর্টে চাঞ্চল্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

শান্তি আলোচনার আড়ালে ইরান কি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে!

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যখন একটি টেকসই শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই তেহরানের সামরিক পুনরুত্থান নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে ইরান অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নিজের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে। বিশেষ করে, বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোতে ড্রোন উৎপাদন নতুন করে শুরু করেছে তেহরান, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

ট্রাম্পের দাবি বনাম গোয়েন্দা রিপোর্ট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে নতুন গোয়েন্দা রিপোর্ট এই দাবিকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরান কেবল ড্রোন উৎপাদনই বাড়ায়নি, বরং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত লঞ্চার মেরামত এবং যুদ্ধাস্ত্রের উৎপাদন ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই ইরান ড্রোন হামলার পূর্ণ সক্ষমতা ফিরে পেতে পারে।

আঞ্চলিক প্রভাব ও নেপথ্যের শক্তি

ইরানের এই দ্রুত সামরিক উত্থান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্র দেশ যেমন—সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুনরায় যুদ্ধ শুরু হলে এই দেশগুলো এবং ইসরায়েল সরাসরি ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানা হতে পারে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের এই দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে রয়েছে রাশিয়া ও চীনের পরোক্ষ সহযোগিতা। বিশেষ করে চীন ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহ করছে বলে ইসরায়েলও দাবি করেছে, যদিও বেইজিং বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এক ঝলকে

  • আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পাকিস্তান মারফত শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনার মাঝেই চাঞ্চল্যকর গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস।
  • যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে ইরান গোপনে তাদের ড্রোন উৎপাদন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির আধুনিকীকরণ দ্রুততর করেছে।
  • মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংসের দাবি’ ভুল প্রমাণিত করে ৬ মাসেই পূর্ণ সক্ষমতা ফিরছে তেহরানের।
  • ইরানের এই সামরিক পুনরুত্থানের পেছনে চীন ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে যন্ত্রাংশ সরবরাহের ইঙ্গিত মিলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *