সোনা পাপ্পু, শান্তনুরা কেন ED-র নজরে? কী কী কীর্তি করেছে এরা? বিস্তারিত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভোররাতের অভিযানে কাঁপল রাজ্য, এবার ইডির জালে বালি পাচার ও তোলাবাজি চক্রের দুই প্রভাবশালী মাস্টারমাইন্ড!
পশ্চিমবঙ্গে বেআইনি সিন্ডিকেট, তোলাবাজি এবং বালি পাচার চক্রের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) অভিযান এবার আরও আক্রমণাত্মক রূপ নিয়েছে। শুক্রবার ভোররাত থেকে কলকাতা এবং মুর্শিদাবাদের মোট ৯টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালায় ইডি আধিকারিকরা। এই মেগা অভিযানের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার (ডিসিপি) শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এবং তৃণমূল ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু। গত সপ্তাহেই ইডির হাতে এই দুই হেভিওয়েট গ্রেফতার হওয়ার পর, শুক্রবার শান্তনুর মুর্শিদাবাদের কান্দির বিলাসবহুল পৈতৃক বাড়ির তালা ভেঙে তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় সংস্থা।
পর্দাফাঁস কোটি কোটি টাকার হাওয়ালা ও বালি পাচারের
তদন্তকারীদের দাবি, এই প্রভাবশালী চক্রটির শিকড় অনেক গভীরে ছড়ানো। একসময়ের কলকাতার কালীঘাট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্তা শান্তনু বিশ্বাসের সঙ্গে সোনা পাপ্পুর সরাসরি আর্থিক যোগসূত্রের একাধিক তথ্যপ্রমাণ ইডির হাতে এসেছে। সান এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয় কামদারের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং ডিজিটাল তথ্য ঘেঁটে প্রায় আড়াই কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। এর পাশাপাশি শান্তনু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ সংলগ্ন এলাকায় বড়সড় বালি পাচার চক্র চালানোর অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরই তাঁর দেশ ছাড়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় লুকেআউট নোটিস জারি করা হয়েছিল।
ত্রাসের রাজত্ব ও জোরপূর্বক সম্পত্তি দখল
অন্যদিকে, বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর গ্রেফতারিকে অপরাধ জগতের বিরুদ্ধে একটি বড় ‘ক্র্যাকডাউন’ হিসেবে দেখছে প্রশাসন। সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, তোলাবাজি এবং অস্ত্র আইনে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে সে কার্যত ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। ইডির তদন্তে প্রকাশ, ভয় দেখিয়ে কম দামে মানুষের মূল্যবান সম্পত্তি লিখে নেওয়া এই চক্রের অন্যতম প্রধান কাজ ছিল। উদাহরণস্বরূপ, বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকার একটি সম্পত্তি মাত্র ১ কোটি টাকায় বিক্রি করতে এক মালিককে বাধ্য করেছিল এই চক্র।
প্রশাসনিক ও আন্তর্জাতিক মহলে সম্ভাব্য প্রভাব
এই হাই-প্রোফাইল গ্রেফতারি ও অভিযানের ফলে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ইডির দাবি, এই তোলাবাজি ও বালি পাচারের টাকা শুধু রাজ্যের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং আন্তর্জাতিক হাওয়ালা রুটের মাধ্যমে তা বিদেশেও পাচার করা হয়েছে। ফলে, এই আর্থিক দুর্নীতির জাল আগামীদিনে আরও বড় কোনো প্রভাবশালী মহলে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে চলতে থাকা বেআইনি নির্মাণ এবং সিন্ডিকেট রাজের ওপর বড়সড় ধাক্কা লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- কলকাতা ও মুর্শিদাবাদের ৯টি জায়গায় একযোগে ইডির ম্যারাথন তল্লাশি অভিযান।
- মুর্শিদাবাদের কান্দিতে প্রাক্তন পুলিশ কর্তা শান্তনু বিশ্বাসের বিলাসবহুল পৈতৃক বাড়ির গেটের তালা ভেঙে ঢুকলেন তদন্তকারীরা।
- হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে আড়াই কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক হাওয়ালা যোগের হদিস।
- ধৃত ব্যবসায়ী সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও খুনের চেষ্টাসহ ১৫টি মামলা এবং জোর করে কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের অভিযোগ।
