ভুয়ো সরকারি অফিসার সেজে বিয়ে, ৯০ লক্ষের যৌতুক নিয়ে চম্পট! ‘ডিউটি’ না যাওয়ায় ফাঁস আসল রূপ – এবেলা

ভুয়ো সরকারি অফিসার সেজে বিয়ে, ৯০ লক্ষের যৌতুক নিয়ে চম্পট! ‘ডিউটি’ না যাওয়ায় ফাঁস আসল রূপ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভুয়ো সরকারি আধিকারিক সেজে বিয়ে, ৯০ লক্ষ টাকার যৌতুক আদায়! ৪ মাসেও অফিসে না যাওয়ায় ফাঁস হলো জালিয়াতি

সরকারি জনসংযোগ আধিকারিক বা পিআরও (PRO) পরিচয় দিয়ে এক যুবকের রাজকীয় বিয়ে এবং কনেপক্ষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ যৌতুক ও গহনা হাতিয়ে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে। বিয়ের পর চার মাস কেটে গেলেও স্বামী একদিনের জন্যও অফিসে না যাওয়ায় স্ত্রীর মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। পরবর্তীতে খোঁজখবর নিতেই বরের আসল রূপ সামনে আসে। এই ঘটনায় নির্যাতিতা স্ত্রী গোয়ালিয়রের মহিলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মিথ্যে পরিচয় ও বিপুল যৌতুক

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোরাইনা জেলার বাসিন্দা ৩৬ বছর বয়সী শিখা জৈনের সাথে গোয়ালিয়রের গৌরব জৈনের বিয়ে হয়েছিল ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে। বিয়ের আগে পাত্রপক্ষের তরফে দাবি করা হয়েছিল যে, গৌরব এম.টেক (M.Tech) পাস করেছেন এবং সরকারি জনসংযোগ বিভাগে উচ্চপদস্থ আধিকারিক বা পিআরও হিসেবে কর্মরত। বরের এই আকর্ষণীয় যোগ্যতার কথা বিশ্বাস করে কনের বাবা নিজের সাধ্যের বাইরে গিয়ে বিয়েতে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লক্ষ টাকা খরচ করেন। যার মধ্যে ২১ লক্ষ টাকা নগদ, ৫ লক্ষ টাকার উপহার সামগ্রী, ৩৫ ভরি সোনা এবং ৩ কেজি রুপোর বাসনপত্র যৌতুক হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।

যেভাবে ফাঁস হলো বরের জারিজুরি

বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে সংসার শুরু করার পর শিখা লক্ষ্য করেন যে, তাঁর স্বামী গৌরব গত চার মাসের মধ্যে একটি দিনের জন্যও অফিসে যাননি। এই বিষয়ে জানতে চাইলে গৌরব প্রতিবারই এড়িয়ে গিয়ে বলতেন, “সব কাজ জুনিয়ররাই সামলে নেয়, আমার যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।” স্বামীর এই অজুহাতে সন্দেহ হওয়ায় শিখা গোপনে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন। তখনই জানতে পারেন যে, গৌরব কোনো স্থায়ী সরকারি চাকুরিজীবী নন। তিনি অতীতে জনসংযোগ বিভাগে শুধুমাত্র চুক্তিভিত্তিক (কন্ট্রাক্ট বেসিস) কর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং বিয়ের আগেই সেই চাকরিটিও চলে গিয়েছিল।

অত্যাচার ও পুলিশের দ্বারস্থ স্ত্রী

চাকরিহীন বরের এই জালিয়াতি ধরে ফেলার পর থেকেই শিখার ওপর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অত্যাচার আরও বেড়ে যায়। দাবি করা যৌতুক নাকি অনেক কম ছিল, এই অজুহাতে বাপের বাড়ি থেকে আরও ৫০ লক্ষ টাকা এনে দেওয়ার জন্য শিখাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা শুরু হয়। তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে একটি ঘরে বন্দি করে রাখা হতো। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের ২৫ মার্চ শিখাকে মারাত্মকভাবে মারধর করে গা থেকে সমস্ত গহনা কেড়ে নিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

নির্যাতিতা শিখা জৈন গোয়ালিয়রের মহিলা থানায় স্বামী গৌরব জৈন, শাশুড়ি লক্ষ্মী জৈন, দেওর সৌরভ জৈন এবং ননদ রুচি ও কামিনী জৈনের বিরুদ্ধে পণের দাবিতে অত্যাচার ও প্রতারণার মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

এক ঝলকে

  • মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে ভুয়ো সরকারি পিআরও (PRO) সেজে বিয়ে করে ৯০ লক্ষ টাকার যৌতুক হাতানোর অভিযোগে মামলা রুজু।
  • বিয়ের পর ৪ মাস ধরে স্বামী একদিনও অফিসে না যাওয়ায় এবং ‘জুনিয়ররা কাজ দেখে’ বলায় স্ত্রীর মনে সন্দেহ জাগে।
  • খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরের স্থায়ী কোনো চাকরি নেই; অতীতে থাকা চুক্তিভিত্তিক কাজও বিয়ের আগেই চলে গিয়েছিল।
  • বাপের বাড়ি থেকে আরও ৫০ লক্ষ টাকা আনার দাবিতে মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়ায় বরের পরিবারে বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের স্ত্রীর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *