জামিন মেলেনি, দেবরাজ ও অদিতির মামলায় বিকাশের সওয়াল নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক পারদ – এবেলা

জামিন মেলেনি, দেবরাজ ও অদিতির মামলায় বিকাশের সওয়াল নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক পারদ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আয় বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিন পাননি তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী তথা গায়িকা-বিধায়ক অদিতি মুন্সি। তবে আইনি ধাক্কার পাশাপাশি এই মামলাকে কেন্দ্র করে এখন রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। নিজেদের মামলায় প্রবীণ সিপিএম নেতা তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে দাঁড় করিয়েছেন দেবরাজ-অদিতি। এই ঘটনাপ্রবাহের জেরে একদিকে যেমন তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে বাম শিবিরের অন্দরেও অস্বস্তি ও চাপানউতোর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

কল্যাণের তীব্র আক্রমণ ও রাজনৈতিক তরজা

তৃণমূল নেতৃত্বের হয়ে আদালতে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সওয়াল করার বিষয়টি সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় নাম না করে বিকাশ ভট্টাচার্যকে নিশানা করে তিনি লেখেন, যিনি নিজেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যোদ্ধা বলে দাবি করেন, তিনি কীভাবে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্তদের হয়ে আদালতে লড়ছেন। এই স্ববিরোধিতার কারণে ভবিষ্যতে তাঁর দুর্নীতির তদন্তের দাবি থেকে বিরত থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন কল্যাণ। একইসঙ্গে পেশাগত দায়িত্বের আড়ালে বিজেপি এবং সিপিআইএমের মধ্যে কোনো গোপন সমঝোতা রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। যদিও নিজের ভূমিকার পক্ষে সওয়াল করে বিকাশ ভট্টাচার্যের দাবি, পেশায় আইনজীবী হওয়ার কারণে তাঁর কাছে মক্কেলের রাজনৈতিক পরিচয় বড় বিষয় নয়।

তৃণমূল ও বাম শিবিরের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ

এই আইনি লড়াইয়ের জল এখন গড়িয়েছে দুই দলেরই অন্দরে। সিপিএমের প্রাক্তন সাংসদকে নিজেদের আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ করায় দেবরাজের উপর চরম ক্ষুব্ধ তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীরা। অন্য দিকে, এই ঘটনায় তীব্র অস্বস্তিতে পড়েছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। এর আগে তৃণমূলের হয়ে কংগ্রেস নেতা কপিল সিবালের সওয়াল করা নিয়ে বামেরা সরব হলেও, এখন নিজেদের শীর্ষ নেতার এমন ভূমিকায় কর্মীদের একাংশ ক্ষুব্ধ। ঘটনার জেরে একদিকে যেমন দেবরাজ ও অদিতির আইনি সংকট বজায় রইল, তেমনই অন্যদিকে এই ঘটনা আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *