ইম্পায় নজিরবিহীন অশান্তি, গভীর রাতে বউবাজার থানায় পিয়া ও শতদীপ – এবেলা

ইম্পায় নজিরবিহীন অশান্তি, গভীর রাতে বউবাজার থানায় পিয়া ও শতদীপ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গে সরকারের পালাবদলের পর থেকেই ‘ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন’ বা ইম্পা-র অন্দরে যে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা এবার চরম রূপ নিল। ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই বর্তমান সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের পদত্যাগের দাবিতে অনড় ছিলেন বিক্ষুব্ধ সদস্যরা। এই পরিস্থিতির মীমাংসা করতে শুক্রবার ইম্পার অফিসে একটি বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়। কিন্তু সেই বৈঠককে কেন্দ্র করে দিনভর চরম উত্তেজনা এবং বাদানুবাদের পর জল গড়াল থানা পর্যন্ত।

ইম্পা কার্যালয়ের এই নজিরবিহীন অশান্তির জেরে গভীর রাতে বউবাজার থানার দ্বারস্থ হন সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। বৈঠকে তাঁর সঙ্গে ‘অভব্য আচরণ’ করা হয়েছে, এই অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পাল্টা আইনি পদক্ষেপ হিসেবে বিরোধী প্রযোজক গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান মুখ শতদীপ সাহাও রাতে ওই একই থানায় পিয়া সেনগুপ্ত ও তাঁর শিবিরের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন।

বৈঠকে বহিরাগতদের দাপট ও ফাইল বিতর্ক

শুক্রবার ইম্পার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলাকালীন দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত ফাইল হাতে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান। তাঁর অভিযোগ, বৈঠকে এমন কিছু ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন যারা আদতে ইম্পার সদস্যই নন। বাইরের লোক এনে পুলিশের সামনেই তাঁর দিকে তেড়ে আসা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। পিয়া সেনগুপ্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় নয় যে বাইরে থেকে লোক এনে হাঙ্গামা করা হবে। এই হট্টগোলের মাঝেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং প্রাথমিক সুস্থতার পর রাতে থানায় যান।

নেতৃত্বের সংকট ও আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত

সভাপতি বৈঠক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর পুলিশের উপস্থিতিতেই পুনরায় সভা শুরু করেন বিক্ষুব্ধ সদস্যরা। সেখানে ধ্বনিভোটের মাধ্যমে রতন সাহাকে অস্থায়ী সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে বর্তমান সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত এবং তাঁর অনুগামীরা এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পুনরায় ভোটের দাবি তুলে আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

অন্যদিকে, বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর পক্ষে সিনেপরিবেশক শতদীপ সাহা দাবি করেছেন, পিয়া সেনগুপ্ত প্রথমে পদত্যাগ করতে রাজি হলেও পরে সুর বদল করেন। বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি জানান, তাঁদের কাছে সমস্ত প্রমাণ রয়েছে এবং ২২ তারিখের পর থেকে এই কমিটিকে তাঁরা আর স্বীকৃতি দিচ্ছেন না।

টলিউডের এই শীর্ষ সংগঠনের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই এবং দুই পক্ষের থানায় যাওয়ার ঘটনা বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতাকে বড়সড় সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। এই আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব আগামী দিনে চলচ্চিত্র বিতরণ এবং নতুন সিনেমার প্রযোজনা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *