৪ লাখের চুক্তিতেই মিলত নিশ্চিত সরকারি চাকরি, উত্তরপ্রদেশে পর্দাফাঁস অনলাইন পরীক্ষা জালিয়াতির বড়সড় চক্রের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশজুড়ে যখন নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং জালিয়াতি নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে, ঠিক তখনই উত্তরপ্রদেশে স্টাফ সিলেকশন কমিশন বা এসএসসি (SSC) পরীক্ষার এক সুসংগঠিত জালিয়াতি চক্রের হদিস মিলল। গ্রেটার নয়ডার একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের মূল পান্ডাসহ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। ধৃতদের কাছ থেকে নগদ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা, একাধিক ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রচুর নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার্থীদের থেকে মাথাপিছু ৪ লক্ষ টাকা করে নিয়ে কেন্দ্রীয় স্তরের একাধিক বড় নিয়োগ পরীক্ষায় পাস করানোর ১০০ শতাংশ গ্যারান্টি দিত এই চক্রটি।
অভিনব প্রযুক্তিতে জালিয়াতির জাল
তদন্তকারীদের মতে, এই চক্রের জালিয়াতির কায়দাটি ছিল অত্যন্ত চতুর ও উচ্চ প্রযুক্তি নির্ভর। এরা সরাসরি এসএসসি-র মূল পরীক্ষা ব্যবস্থা বা সার্ভার হ্যাক করেনি। তার বদলে, পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কো ম্পা নির নিজস্ব সার্ভারকে এড়িয়ে একটি ‘প্রক্সি সার্ভার’ বসিয়েছিল অভিযুক্তরা। এরপর একটি স্ক্রিন-শেয়ারিং ভিউয়ার অ্যাপ্লিকেশনের সাহায্যে ভেতরের প্রশ্নপত্রগুলি নিমেষের মধ্যে কেন্দ্রের বাইরে বসে থাকা বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হত। বাইরে থেকে সেই বিশেষজ্ঞরা দ্রুত প্রশ্নের সমাধান করে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে ভেতরের পরীক্ষার্থীদের কম্পিউটারে সঠিক উত্তরগুলি সিলেক্ট করে দিতেন। এই অভিনব কৌশলে সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেস (CAPF), সেক্রেটারিয়েট সিকিউরিটি ফোর্স (SSF) কনস্টেবল জিডি এবং আসাম রাইফেলস রাইফেলম্যান এক্সামিনেশন-২০২৬-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন পরীক্ষাগুলিকে নিশানা করা হয়েছিল।
তদন্তের পরিধি ও দূরগামী প্রভাব
গ্রেটার নয়ডার নলেজ পার্ক এলাকার ‘বালাজি ডিজিটাল জোন’ নামের একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে অতর্কিতে হানা দিয়ে মূল অভিযুক্ত প্রদীপ চৌহান এবং প্রযুক্তিগত দিক সামলানো অরুণ কুমারসহ সাতজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। প্রদীপ দীর্ঘদিন ধরে এই জালিয়াতি চক্র চালাচ্ছিল এবং যেখানে পরীক্ষা নেওয়া হত, সেই কেন্দ্রটি সে নিজেই সেট-আপ করেছিল। এই ঘটনার ফলে দেশজুড়ে বড়সড় সরকারি পরীক্ষাগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আবারও গভীর সংকটের মুখে পড়ল। বিশেষ করে নিট বিতর্কের আবহে এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কীভাবে পরীক্ষার স্বচ্ছতা নষ্ট করা হচ্ছে। এই চক্রের জাল কতটা গভীরে ছড়িয়ে রয়েছে এবং গত কয়েক বছরে হওয়া অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষাতেও এই একই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে এসটিএফ।
