শ্লীলতাহানি ও ছিনতাইয়ের গুরুতর অভিযোগ, বরানগরে গ্রেপ্তার দাপুটে তৃণমূল নেতা শংকর রাউত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মহিলার শ্লীলতাহানি, মারধর এবং ছিনতাইয়ের মতো অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন বরানগরের দাপুটে আইএনটিটিইউসি নেতা শংকর রাউত। এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ‘তোলাবাজ’ হিসেবে পরিচিত এই নেতার সঙ্গে তাঁর আরও চার অনুগামীকেও গ্রেপ্তার করেছে বরানগর থানার পুলিশ। ধৃতদের ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ প্রশাসন।
ঘটনার সূত্রপাত ও পুলিশি অভিযান
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনকয়েক আগে বরানগর পৌর এলাকার লেবুবাগানে এক মহিলাকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ ওঠে শংকর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। আক্রান্ত মহিলার চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে অর্পণ দত্ত ও দেবজ্যোতি বণিক ওরফে বনি নামে দুই অভিযুক্তকে গণপিটুনি দেয়। অনুগামীদের আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে প্রভাবশালী নেতা শংকর রাউত দ্রুত সেখানে গিয়ে অভিযুক্তদের উদ্ধার করে নিজের গাড়িতে তুলে নেন এবং চিকিৎসার জন্য বরানগর হাসপাতালে ভর্তি করান। পরবর্তী সময়ে নির্যাতিতা মহিলা বরানগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তদন্তে নামে পুলিশ। যে হাসপাতালে অভিযুক্তদের চিকিৎসা চলছিল, সেখানেই গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত শংকর রাউতসহ অর্পণ দত্ত, দেবজ্যোতি বণিক, দেবাশিস দাস ও সুবল দে-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
এলাকায় একচেটিয়া দাপট ও অপরাধের ইতিহাস
ধৃতদের মধ্যে অর্পণ দত্তের বিরুদ্ধে এর আগেও এক ইন্টিরিয়ার ডিজাইনারকে মারধরের অভিযোগ ছিল এবং সে জেল খেটে সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়েছিল। জামিন পেয়েই সে পুনরায় এলাকায় তাণ্ডব শুরু করে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। অন্যদিকে, আইএনটিটিইউসি নেতা হিসেবে শংকর রাউতের বরানগর এলাকায় একচেটিয়া দাপট ছিল। অটো, টোটো চালকদের থেকে শুরু করে নতুন বাড়ি তৈরির সিন্ডিকেট ব্যবসা—সবক্ষেত্রেই মোটা অঙ্কের টাকা তোলার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।
প্রভাব ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নতুন সরকারের পক্ষ থেকে দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং নারী নিগ্রহের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তার পর থেকেই সমাজবিরোধী ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করছে প্রশাসন। বরানগরের এই প্রভাবশালী নেতার গ্রেপ্তারির ঘটনাটি সেই কঠোর নীতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই গ্রেপ্তারের ফলে এলাকায় তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের দাপট অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন সাধারণ মানুষ।
