আর জি কর ফাইলস খুলতেই বিপাকে অভীক দে, বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ রাজ্যপালের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আর জি কর হাসপাতালের নৃশংস ঘটনার স্মৃতি উসকে দিয়ে আরও একবার বড়সড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো। আর জি কর ফাইলস খুলতেই এবার তীব্র আইনি ও প্রশাসনিক চাপের মুখে পড়েছেন বিতর্কিত চিকিৎসক নেতা অভীক দে। অভয়া কাণ্ডের পর থেকেই তাঁর ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছিল। এবার তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। অপরাধের সময় সেমিনার রুমে তাঁর রহস্যজনক উপস্থিতি এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র নিয়ে নতুন করে জলঘোলা শুরু হয়েছে।
অভিযোগের পাহাড়ে বিদ্ধ অভীক
চিকিৎসক মহলে অভীক দের বিরুদ্ধে একচ্ছত্র আধিপত্য এবং ‘থ্রেট কালচার’ বা হুমকি সংস্কৃতি চালানোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। আর জি কর কাণ্ডের পরেই স্বাস্থ্য দপ্তর এসএসকেএম হাসপাতালের এই পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিকে সাসপেন্ড করেছিল। তবে বিষয়টি সেখানেই থমকে থাকেনি। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে ৩২ দফা চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে মর্গে দুর্নীতি, চিকিৎসকদের বেআইনি বদলির ক্ষেত্রে প্রভাব খাটানো, বছরের পর বছর নিয়মিত ক্লাস না করা, হাসপাতালে হাজিরা না দেওয়া এবং রোগী না দেখার মতো গুরুতর বিষয়। সবথেকে বড় প্রশ্ন উঠেছে তাঁর যোগ্যতা নিয়ে। তিনি কীভাবে সার্ভিস কোটা ব্যবহার করে এসএসকেএম-এর মতো নামী হাসপাতালে স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ পেলেন, রাজ্যপাল এবার তা-ও খতিয়ে দেখার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রভাব ও সম্ভাব্য পরিণতি
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্দরে লুকিয়ে থাকা গভীর দুর্নীতিকে সামনে এনে দেবে। অভীক দের মতো প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ায় জুনিয়র ডাক্তারদের মধ্যে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। একই সঙ্গে, সার্ভিস কোটায় ডাক্তার ভর্তির ক্ষেত্রে যে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তা প্রমাণিত হলে স্বাস্থ্য দপ্তরের শীর্ষ স্তরের আধিকারিকদের ভূমিকাও কাঠগড়ায় উঠবে। এই তদন্তের ফলে আগামী দিনে সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বচ্ছতা ফিরবে এবং অপরাধের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের মুখোশ পুরোপুরি খুলে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
