জামিনের আর্জি এড়ালেন ধৃত ব্যবসায়ী জয় কামদার, জেলের খাবারে নুনের রাশ টানার অনুরোধ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আর্থিক তছরুপের মামলায় ধৃত বেহালার বিশিষ্ট প্রোমোটার ও ব্যবসায়ী জয় কামদার আইনি লড়াইয়ে এক নজিরবিহীন কৌশল নিলেন। সিজিও কমপ্লেক্সে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) হাতে গ্রেফতার হওয়া এই ব্যবসায়ী আদালতে জামিনের কোনো আবেদনই জানালেন না। শুক্রবার কলকাতার আদালতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজির করানো হলে তাঁর আইনজীবী জামিনের পরিবর্তে জয়ের শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টিকেই প্রধান্য দেন এবং জেলের খাবারে নুন কম দেওয়ার মতোন এক ব্যতিক্রমী অনুরোধ জানান।
আইনি কৌশল ও শারীরিক উদ্বেগের কারণ
আইনজীবীদের একাংশের মতে, ইডির করা আর্থিক তছরুপের মামলায় কড়া আইনি ধারা থাকার কারণে এখনই জামিন পাওয়া কঠিন বুঝতে পেরেই হয়তো এই কৌশল নিয়েছে আসামী পক্ষ। তবে জামিন না চাইলেও জয়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁর আইনজীবী সুব্রত সর্দার। আদালতে তিনি জানান, জয়ের বিশেষ কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে যা থেকে যেকোনো সময় স্ট্রোক বা হৃদরোগের মতো মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এই কারণেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বাড়ি থেকে তৈরি কম নুনের খাবার জেলে পাঠানোর অনুমতি চাওয়া হয়েছে। ইডির পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীকে আরও ১৪ দিনের জন্য বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার আবেদন জানানো হয়।
তদন্তের জাল ও সম্ভাব্য প্রভাব
গত এপ্রিল মাসে বেহালার এই ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ইডি বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করেছিল। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের বাড়িতে ইডি তল্লাশির সূত্র ধরেই মূলত জয়ের নাম সামনে আসে। এরপর দু’বার সমন এড়ানোর পর সিজিও কমপ্লেক্সে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের শেষে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
এই গ্রেফতারি এবং পরবর্তী আইনি মোড় কলকাতার প্রোমোটিং ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জয়ের আর্থিক লেনদেনের সাথে আর কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব বা বড় কোনো চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইডি তাদের তদন্তের পরিধি আরও বাড়াচ্ছে। আপাতত আদালতের নির্দেশে জেল হেফাজতেই কাটছে এই ব্যবসায়ীর দিন।
