আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার আর্জি ইজরায়েলের, ভারতের কৌশলগত স্বার্থ ও চাবাহার সংকটের মুখে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ভারতের কাছে এক তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক আর্জি জানিয়েছে ইজরায়েল। ইরানের শক্তিশালী ও প্রভাবশালী সামরিক সংস্থা ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC)-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করার জন্য ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইজরায়েলের বিদেশ মন্ত্রক। ইজরায়েলের দাবি, দীর্ঘমেয়াদে ভারতের মতো গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ দেশের কৌশলগত নিরাপত্তার স্বার্থেই আইআরজিসি-র মতো উগ্রপন্থী শক্তির বিরুদ্ধে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ইজরায়েলের যুক্তি ও বিশ্বমঞ্চের উদাহরণ
জেরুজালেমে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সাথে আলাপচারিতায় ইজরায়েলি আধিকারিকরা অস্ট্রেলিয়ার উদাহরণ টেনে এনেছেন। তাঁদের দাবি, শুরুতে অস্ট্রেলিয়া ইরানের এই সংস্থাকে গুরুত্ব না দিলেও পরে প্রমাণিত হয় যে অস্ট্রেলিয়ায় ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর জঙ্গি হামলায় আইআরজিসি সরাসরি মদত দিয়েছিল। ফলস্বরূপ, ২০২৫ সালের নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়া একে রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষকতার তকমা দিয়ে নিষিদ্ধ করে। ইজরায়েলের দাবি, মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে সামগ্রিক এশিয়ার স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে এই সংস্থা। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পরবর্তীতে কানাডাসহ বিশ্বের ৪৪টি দেশ ইতিমধ্যেই আইআরজিসি-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
ভারতের ভারসাম্য নীতি ও চাবাহার বন্দরের ভবিষ্যৎ
ইজরায়েলের এই আর্জিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এখনই সাড়া দেওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। ভারতীয় আধিকারিকদের মতে, দিল্লির কাছে এই বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, কারণ ধুরন্ধর দুই প্রতিপক্ষ দেশের সাথে ভারসাম্য বজায় রেখে চাবাহার বন্দর ও জাতীয় শক্তি নিরাপত্তা রক্ষা করাই ভারতের প্রধান লক্ষ্য। ভারত নিজের নিরাপত্তার জন্য আইআরজিসি-কে সরাসরি কোনো হুমকি মনে করে না। তদুপরি, ভারতের অপরিশোধিত তেল ও সারের আমদানির একটি বড় অংশ আসে হরমূজ প্রণালী হয়ে, যা এই সংঘাতের জেরে বর্তমানে এমনিতেই সংকটের মুখে। তাছাড়া ইরানের সাথে ভারতের চাবাহার বন্দর প্রকল্প জড়িত, যা দিল্লির আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ইরানকে চটিয়ে কোনো পদক্ষেপ ভারত নেবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এক ঝলকে
- ইরানের সামরিক সংস্থা আইআরজিসি (IRGC)-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা ও নিষিদ্ধ করার জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক আর্জি জানিয়েছে ইজরায়েল।
- ইজরায়েলের দাবি, আঞ্চলিক ও বিশ্ব নিরাপত্তার স্বার্থে অস্ট্রেলিয়ার মতো ভারতেরও এই উগ্রপন্থী ইরানি এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
- ভারত তার প্রাচীন সভ্যতাগত সম্পর্ক, জ্বালানি চাহিদা এবং চাবাহার বন্দর প্রকল্পের কথা মাথায় রেখে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে নারাজ।
- আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের ৪৪টি দেশ ইতিমধ্যেই ইরানের এই শক্তিশালী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস-কে নিষিদ্ধ করেছে।
