যুদ্ধের বাজারে ‘থ্রি এফ’ নিয়ে নতুন উদ্বেগ ভারতের, মুম্বইয়ের মঞ্চ থেকে কী বার্তা দিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে ভারতীয় অর্থনীতিতে যে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে সোমবার মুম্বইয়ের এক অনুষ্ঠানে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও স্পষ্ট বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বর্তমানের এই কঠিন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারতকে প্রধানত তিনটি বিষয়ের ওপর কড়া নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। অর্থমন্ত্রীর ভাষায় এই তিনটি বিষয় হলো— জ্বালানি (Fuel), সার (Fertilizer) এবং বিদেশি মুদ্রা (Forex), সংক্ষেপে যা এখন ‘থ্রি এফ’ (3F) নামে চর্চায় উঠে এসেছে।
অর্থমন্ত্রী বিশেষ করে বিশ্ববাজারে সারের মূল্যবৃদ্ধিকে “কল্পনাতীত” বলে উল্লেখ করেছেন। এর পাশাপাশি দেশের বাজারে পেট্রল ও ডিজেলের ক্রমাগত দাম বাড়া নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, গত ১১ দিনে দেশে লিটার প্রতি পেট্রলের দাম প্রায় সাড়ে সাত টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারত তার অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনের প্রায় ৯০ শতাংশ তেলই বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে। ফলে, পশ্চিম এশিয়ার অশান্তির কারণে আন্তর্জাতিক স্তরে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হতেই তার সরাসরি ধাক্কা এসে লেগেছে ভারতের অর্থনীতিতে। এই পরিস্থিতিতে দেশের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার (Forex Reserve) সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও জরুরি বলে মনে করছেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থনীতির ওপর বহুমুখী প্রভাব ও সরকারের পদক্ষেপ
নির্মলা সীতারামন জানান, পশ্চিম এশিয়ার এই সাম্প্রতিক সঙ্কটের প্রভাব কেবল আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই, তা সরাসরি প্রভাব ফেলছে দেশের আমজনতা ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে। এর ফলে পণ্য পরিবহণের খরচ ও সময় যেমন বাড়ছে, তেমনই তৈরি হচ্ছে কাঁচামালের তীব্র অভাব।
তবে এই বিশ্বজোড়া সংকটের মধ্যেও দেশের অর্থনীতি যাতে ভেঙে না পড়ে, তার জন্য কেন্দ্র সরকার বেশ কিছু সদর্থক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে তিনি দাবি করেন:
- ট্যাক্স হ্রাস: সাধারণ মানুষকে আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি থেকে সাময়িক স্বস্তি দিতে কেন্দ্রীয় সরকার পেট্রল ও ডিজেলের ওপর শুল্ক বা ট্যাক্স কমিয়েছে। এর ফলে সরকারের রাজকোষ থেকে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতি সহ্য করতে হয়েছে।
- বকেয়া মেটানোর নির্দেশ: দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) ক্ষেত্রকে চাঙ্গা রাখতে এবং বাজারে তারল্য বজায় রাখতে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষেত্রগুলিতে আটকে থাকা প্রায় ৮.১ লক্ষ কোটি টাকার বকেয়া পাওনা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
নেতিবাচক প্রচারের কড়া সমালোচনা
দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ছে বলে বিরোধীদের একাংশ যে দাবি তুলছেন, তার তীব্র সমালোচনা করেন অর্থমন্ত্রী। নাম না করে তিনি বলেন, কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতের অর্থনৈতিক সাফল্যকে ছোট করে দেখিয়ে বাজারে কেবল ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। বিশ্ববাজারে এত সমস্যা থাকা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনৈতিক ভিত্তি যে যথেষ্ট মজবুত রয়েছে, তা মনে করিয়ে দেন তিনি। এর সপক্ষে দেশে ক্রমাগত জিএসটি (GST) সংগ্রহ বৃদ্ধি এবং বাজারে সাধারণ মানুষের চাহিদার ধারাবাহিকতাকে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বড় প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন নির্মলা সীতারামন।
এক ঝলকে
- বিশ্ববাজারের অস্থিরতার মাঝে ভারতের অর্থনীতি সুরক্ষিত রাখতে ‘থ্রি এফ’— ফুয়েল (Fuel), ফার্টিলাইজার (Fertilizer) ও ফরেক্স (Forex)-এর ওপর কড়া নজরদারির বার্তা দিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
- গত ১১ দিনে দেশে পেট্রলের দাম লিটার প্রতি প্রায় সাড়ে সাত টাকা বাড়ায় এবং সারের দাম কল্পনাতীত বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ নবান্নের।
- সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে জ্বালানি তেলের ওপর ট্যাক্স কমিয়েছে কেন্দ্র, যার ফলে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি।
- ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সুবিধার্থে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিতে আটকে থাকা ৮.১ লক্ষ কোটি টাকার বকেয়া দ্রুত মেটানোর নির্দেশ।
