কাটবে জট, প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে আমেরিকা ও ইরান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘদিন ধরে চলা বৈশ্বিক উত্তেজনার পারদ কি এবার নামতে চলেছে? আন্তর্জাতিক মহলে এখন এই প্রশ্নই সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের বৈরী দুই দেশ আমেরিকা ও ইরান অবশেষে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। প্রায় তিন মাস ধরে চলা তীব্র সংঘাতের পর এই পদক্ষেপটিকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে শান্তি প্রক্রিয়া পুরোপুরি কার্যকর হওয়া এখন কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য তিনি আরও কয়েক দিন সময় নিতে চান।
চুক্তির মূল শর্ত ও পরমাণু কর্মসূচি
এই সমঝোতার মূল লক্ষ্য হলো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। খসড়া চুক্তি অনুযায়ী, তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পুনরায় আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই চুক্তিতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা থেকে ইরান সম্পূর্ণ দূরে থাকবে বলে অঙ্গীকার করেছে। সূত্র মারফত জানা গেছে, দুই দেশের আলোচকরা ৬০ দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সার্বিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। চুক্তির অধিকাংশ শর্ত ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে এবং ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এতে সবুজ সংকেত দিয়েছেন।
ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকলেও সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছিল। যেকোনো মুহূর্তে পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার একটি আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সিংহভাগ সরবরাহ হওয়ায়, এই অঞ্চলে শান্তি ফিরলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে হোয়াইট হাউস এখনো এই খসড়া সমঝোতার বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। এখন বিশ্ববাসীর নজর ওয়াশিংটনের দিকে, কারণ ট্রাম্পের একটি স্বাক্ষরই পারে মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাতে।
