সব সময় এআই ব্যবহারে অলস হচ্ছে তরুণ প্রজন্মের মস্তিষ্ক, সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা – এবেলা

সব সময় এআই ব্যবহারে অলস হচ্ছে তরুণ প্রজন্মের মস্তিষ্ক, সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বর্তমান যুগে মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করে তুললেও এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। এমআইটি মিডিয়া ল্যাব-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, চ্যাটজিপিটির মতো প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মানুষের স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি এবং মেধার বিকাশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। গবেষক নাতালিয়া কসমিনার নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় তরুণ প্রজন্মের বুদ্ধিবৃত্তিক অলসতার এক আশঙ্কাজনক চিত্র উঠে এসেছে।

কমছে মস্তিষ্কের সক্রিয়তা

গবেষকরা মোট ৫৪ জন ছাত্রছাত্রীকে তিনটি পৃথক দলে ভাগ করে একটি প্রবন্ধ লেখার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। প্রথম দল চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে, দ্বিতীয় দল সাধারণ গুগল সার্চের সাহায্য নেয় এবং তৃতীয় দল কোনও প্রযুক্তির সাহায্য ছাড়াই নিজস্ব মেধা খাটিয়ে প্রবন্ধটি লেখে। লেখার সময় অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, যারা নিজেদের বুদ্ধি খাটিয়ে লিখেছেন, তাদের মস্তিষ্কের প্রায় প্রতিটি অংশ অত্যন্ত সক্রিয় ছিল। অন্যদিকে, গুগল সার্চ ব্যবহারকারীদের শুধুমাত্র ভিজ্যুয়াল কর্টেক্স সক্রিয় ছিল। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের মস্তিষ্কের সক্রিয়তা অন্যদের তুলনায় প্রায় ৫৫ শতাংশ কমে গিয়েছিল। টানা চার মাস ধরে চলা এই পর্যবেক্ষণে প্রমাণিত হয়েছে যে, এআই ব্যবহারকারীরা স্নায়বিক, ভাষাগত এবং আচরণগত—সব স্তরেই অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছেন।

কগনিটিভ অফলোডিং ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই সমস্যা কেবল একটি গবেষণাতেই সীমাবদ্ধ নয়। ‘সোসাইটিজ’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষক মাইকেল গার্লিকের অন্য একটি গবেষণাতেও একই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তরুণ প্রজন্ম তাদের স্মৃতিশক্তি এবং সমস্যা সমাধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এআই-এর ওপর ছেড়ে দিচ্ছে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘কগনিটিভ অফলোডিং’ বলা হচ্ছে। এর ফলে তরুণদের বিচারবুদ্ধি ও ক্রিটিক্যাল থিংকিং ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে। এমনকি এআই-এর নিজস্ব পক্ষপাত বা ‘বায়াস’ মানুষের স্বাধীন চিন্তাধারাকে প্রভাবিত করতে পারে বলেও আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এআই টুলের বিকাশ যেহেতু থামানো সম্ভব নয়, তাই দীর্ঘমেয়াদি বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষতি এড়াতে শিক্ষা নীতিতে পরিবর্তন আনা জরুরি। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রছাত্রীদের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ পাঠ্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *