ব্যস্ত জীবনে ভালোবাসায় বাড়ছে ট্রমা বন্ডিং, এখনই সাবধান না হলে মারাত্মক বিপদ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আধুনিক জীবনে জটিলতার আর এক নাম সম্পর্ক। বর্তমান যুগে ভালোবাসার টানে মানুষ এমন কিছু সম্পর্কের জালে জড়িয়ে পড়ছে, যা আপাতদৃষ্টিতে গভীর প্রেম মনে হলেও আসলে তা এক মানসিক ফাঁদ। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই টানাপোড়েনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রমা বন্ডিং’। বিচার-বিবেচনা ছাড়াই একটু ভালোবাসা পাওয়ার আশায় ছুটে গিয়ে বহু মানুষ এই বিষাক্ত চক্রে আটকে পড়ছেন।
কী এই ট্রমা বন্ডিং ও এর কারণ
ট্রমা বন্ডিংয়ের মূল ভিত্তি হলো সঙ্গীর মর্জিমতো চলা এবং মানসিক নির্যাতন ও ভালোবাসার এক অদ্ভুত পর্যায়ক্রমিক চক্র। এই ধরনের সম্পর্কে সঙ্গী আপনাকে নিজের শর্তে ভালোবাসবে। নিজের প্রয়োজনে বা মন খারাপের সময় সে আপনার কাছে আশ্রয় খুঁজবে, কিন্তু স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে চরম আঘাত করতেও দু’বার ভাববে না। সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, নির্যাতিত সঙ্গী যখনই মানসিকভাবে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার বা ‘মুভ অন’ করার প্রস্তুতি নেন, তখনই অপরজন মায়াবী কথায় সব ভুলিয়ে আবার ফিরে আসে। এই সাময়িক ভালোবাসার স্রোতে ভেসে গিয়ে মানুষ বারবার সঙ্গীকে ক্ষমা করে দেয় এবং ধীরে ধীরে এই আঘাত ও ভালোবাসার দোলাচলের প্রতি এক ধরনের মানসিক আসক্তি তৈরি হয়। মূলত আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং সঙ্গীকে হারানোর ভয় মানুষকে এই চক্রে বন্দি করে ফেলে।
ভয়াবহ মানসিক প্রভাব
এই সম্পর্কের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। অনবরত আঘাত ও ক্ষমার এই চক্র চলতে থাকায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি একসময় পুরোপুরি সঙ্গীর হাতের খেলনায় পরিণত হন। নিজের জীবনের মানসিক চাবিকাঠি অন্যের হাতে চলে যাওয়ায় মানুষ চরম অবসাদ ও হীনম্মন্যতায় ভুগতে শুরু করে। এই টক্সিক বা বিষাক্ত সম্পর্কের অমোঘ আকর্ষণ এতটাই তীব্র হয় যে, চাইলেও মানুষ এই চক্রব্যূহ ভেঙে বের হতে পারে না। মনোবিদদের মতে, সময়মতো এই মানসিক ফাঁদ চিহ্নিত করে সাবধান না হলে এবং সম্পর্ক থেকে বের হতে না পারলে ব্যক্তির নিজস্ব অস্তিত্ব ও মানসিক ভারসাম্য পুরোপুরি বিপন্ন হতে পারে।
