বাঘের ডেরা খালি করতে সরছে জনবসতি, বক্সায় এবার বড় পদক্ষেপ প্রশাসনের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের (বিটিআর) পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে প্রশাসন। জঙ্গলে নতুন করে বাঘ নিয়ে আসার প্রস্তুতি হিসেবে এবার খালি করা হচ্ছে বক্সার ঐতিহাসিক জনপদ ‘জয়ন্তী’। বাঘের অবাধ বিচরণের জন্য কোর এলাকা থেকে মানুষের বসতি সরিয়ে নেওয়ার এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত বাস্তবায়নের পথে। এর আগে গাঙ্গুটিয়া ও ভুটিয়া বস্তির সফল পুনর্বাসনের পর এবার জয়ন্তীর বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
পুনর্বাসনের প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক তৎপরতা
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কালচিনির ভাটপাড়া চা বাগানের কাছে গড়ে ওঠা নতুন পুনর্বাসন কেন্দ্র ‘বনছায়া’র পাশেই জয়ন্তীর বাসিন্দাদের জন্য নতুন জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে নির্দিষ্ট এলাকাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ শুরু হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আলিপুরদুয়ারের জেলা পুলিশ প্রশাসন সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি রাখছে। এর আগে ভুটিয়া বস্তি ও গাঙ্গুটিয়া বনবস্তি এলাকার ২৪২টি পরিবারকে স্থানান্তরিত করে সেখানে সফলভাবে পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রতিটি পরিবারকে ১৫ লক্ষ টাকা এবং বসবাসের জন্য ৮ ডেসিমেল করে জমি দেওয়া হয়েছিল।
স্থানান্তরের কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
ব্রিটিশ আমলের এই পুরনো বনবস্তিটি স্থানান্তরের পেছনে মূলত দুটি প্রধান কারণ কাজ করছে। প্রথমত, কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রক বক্সা টাইগার রিজার্ভে বাইরে থেকে বাঘ এনে ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বন্যপ্রাণের সুরক্ষায় এবং মানুষের সাথে বাঘের সংঘাত এড়াতে এই কোর এলাকাটি সম্পূর্ণ জনশূন্য করা জরুরি হয়ে পড়েছে। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার সংকট। দীর্ঘদিন ধরেই জয়ন্তী এলাকায় কর্মসংস্থানের অভাব, উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের অনুপস্থিতি এবং ঝিমিয়ে পড়া পর্যটন শিল্পের কারণে মানুষ সংকটে ছিলেন। এর ওপর জয়ন্তী নদীর ভাঙন ও গতিপথ পরিবর্তন প্রতিনিয়ত এই জনপদকে গ্রাস করার উপক্রম করেছে।
এই প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে প্রায় এক বছর আগেই জয়ন্তীর ৭১৭ জন ভোটারের মধ্যে ৬৯০ জনই জঙ্গল ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার পক্ষে লিখিত সম্মতি দিয়েছিলেন। ফলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বাসিন্দাদের একটি বড় অংশই এই স্থানান্তরকে স্বাগত জানাচ্ছেন। এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন বক্সার জঙ্গলে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের পথ সুগম হবে, অন্যদিকে অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্ত হয়ে মূল ভূখণ্ডের আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন জয়ন্তীবাসীরা।
