গোঘাটে তৃণমূলের পার্টি অফিসে এ কী কাণ্ড, তালা খুলতেই উদ্ধার শয়ে শয়ে রেশন ও জব কার্ড! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
হুগলির গোঘাটের মান্দারণ গ্রাম পঞ্চায়েতের নলডুবি এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি নথিপত্র উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার ওই তালাবন্ধ পার্টি অফিসটি খোলার পর সেখান থেকে শতাধিক ডিজিটাল রেশন কার্ড, ১০০ দিনের কাজের জব কার্ড, আধার কার্ড এবং বেশ কিছু জমির দলিল উদ্ধার হয়। একই সঙ্গে সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে উপভোক্তাদের দেওয়ার জন্য মজুত রাখা সরকারি বালতি ও সাদা থান কাপড়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
নেপথ্যের কারণ ও রাজনৈতিক সংঘাত
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নলডুবি গ্রামের ৬৪ নম্বর বুথের ওই দলীয় কার্যালয়ের চাবি ছিল বর্তমান তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী বিশ্বজিৎ ঘোষের কাছে। তাঁর কাছ থেকে চাবি নিয়ে কার্যালয়ের তালা খুলতেই আলমারি থেকে সার দিয়ে সাজানো এই বিপুল পরিমাণ নথিপত্র বেরিয়ে আসে। ঘটনার খবর পেয়েই এলাকায় পৌঁছায় পুলিশ, ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের (বিডিও) প্রতিনিধি দল এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। সমস্ত নথিপত্র ইতিমধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। তাদের দাবি, গরিব মানুষের হকের রেশন ও কাজের অধিকার কেড়ে নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে নথিপত্র লুকিয়ে রেখে বড়সড় কেলেঙ্কারি চালানো হচ্ছিল। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে বর্তমান পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী বিশ্বজিৎ ঘোষ দাবি করেছেন, নির্বাচন ঘোষণার কারণে সরকারি বালতিগুলি বিলি করা সম্ভব হয়নি। তবে বিপুল পরিমাণ রেশন ও জব কার্ড সেখানে কীভাবে এল, তা তাঁর জানা নেই এবং এই বিষয়ে আগের পঞ্চায়েত সদস্যাই সদুত্তর দিতে পারবেন।
সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনার ফলে স্থানীয় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গরিবের রেশন ও জব কার্ড দলীয় কার্যালয়ে আটকে রাখার এই ঘটনা জনমানসে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিতে পারে। বিষয়টির তদন্ত শুরু হওয়ায় আগামী দিনে তৎকালীন পঞ্চায়েত জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় নেতৃত্বের ওপর আইনি চাপ যেমন বাড়বে, তেমনই পঞ্চায়েত স্তরে কাটমানি ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।
