এক পলিসিতেই আজীবন সুরক্ষিত স্বামী-স্ত্রী, বাম্পার রিটার্ন নিয়ে হাজির এলআইসির নতুন প্ল্যান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সংসারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে সঞ্চয় ও জীবন বিমার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তাকে আরও মজবুত করতে লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এলআইসি) নিয়ে এসেছে একটি দুর্দান্ত যৌথ বিমা যোজনা, যার নাম ‘নিউ জীবন সাথী লিমিটেড প্রিমিয়াম’। এটি মূলত একটি ট্র্যাডিশনাল সেভিংস এবং প্রোটেকশন প্ল্যান। এই প্ল্যানের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, এখানে বাজারের ওঠানামার কোনো ঝুঁকি নেই এবং মাত্র নির্দিষ্ট কয়েক বছর প্রিমিয়াম দিয়েই পলিসির মেয়াদ অনুযায়ী দীর্ঘ সময় পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রী দুজনেই এক ছাতার তলায় সুরক্ষার কভারেজ উপভোগ করতে পারেন।
ঝুঁকিহীন সঞ্চয় ও নিশ্চিত বোনাসের যুগলবন্দি
এই পলিসির মূল আকর্ষণ হলো যৌথ লাইফ কভারেজ এবং সীমিত প্রিমিয়াম প্রদানের সুবিধা। পলিসি গ্রাহকদের পুরো মেয়াদ জুড়ে টাকা জমার ঝঞ্ঝাট পোহাতে হয় না। নির্দিষ্ট কয়েক বছর প্রিমিয়াম দেওয়ার পরেই শুরু হয়ে যায় প্রিমিয়াম-মুক্ত কভারেজ। এর পাশাপাশি এই যোজনায় থাকছে নিশ্চিত গ্যারান্টেড অ্যাডিশন, যার ফলে পলিসির মেয়াদ শেষে ডেথ বেনিফিট ও ম্যাটুরিটির একটি মোটা টাকা পাওয়া সম্ভব। শেয়ার বাজারের ওঠানামার কোনো প্রভাব না থাকায় দীর্ঘমেয়াদে এই প্ল্যান পরিবারের ভবিষ্যৎকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখে।
মেয়াদ ও ম্যাচুরিটির সহজ হিসেব
পলিসির মেয়াদ ও প্রিমিয়াম দেওয়ার সময়ের মধ্যে একটি সুবিধাজনক ভারসাম্য রাখা হয়েছে। যেমন— ২০ বছরের পলিসি মেয়াদের জন্য প্রিমিয়াম দিতে হবে ১০ বছর, ২৫ বছরের মেয়াদের জন্য ১৫ বছর এবং ৩০ বছরের মেয়াদের জন্য ১৬ বছর।
ধরা যাক, ৩২ বছর বয়সী স্বামী এবং ২৯ বছর বয়সী স্ত্রী ১০ লক্ষ টাকার ‘সাম অ্যাসিওর্ড’ সহ ২০ বছরের মেয়াদের একটি পলিসি নিলেন। নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের প্রিমিয়াম দিতে হবে মাত্র ১০ বছর, কিন্তু লাইফ কভারেজ বজায় থাকবে পুরো ২০ বছর। এলআইসি প্রতি ১০০০ টাকা বেসিক সাম অ্যাসিওর্ডের ওপর একটি নির্দিষ্ট গ্যারান্টেড অ্যাডিশন যোগ করে। প্রতি ইউনিটে ৬৫ টাকা করে গ্যারান্টেড অ্যাডিশন ধরা হলে, ১০ লক্ষ টাকার পলিসিতে ২০ বছরের মেয়াদে মোট গ্যারান্টেড অ্যাডিশন দাঁড়াবে প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা। ফলস্বরূপ, ২০ বছর পর পলিসির মেয়াদ পূর্ণ হলে বেসিক সাম অ্যাসিওর্ড ও গ্যারান্টেড অ্যাডিশন মিলিয়ে আনুমানিক মোট ২৩ লক্ষ টাকা ম্যাচুরিটি পাওয়া যাবে।
আর্থিক নিরাপত্তা ও কর ছাড়ের সুবিধা
পলিসি চলাকালীন স্বামী বা স্ত্রীর যে কারও অকালপ্রয়াণ ঘটলে নমিনি নির্দিষ্ট ডেথ বেনিফিট পাবেন। উপরন্তু, পলিসির শর্তাবলী অনুযায়ী অপর সঙ্গীর কভারেজ চালু থাকবে এবং ভবিষ্যতের বাকি প্রিমিয়াম মকুব হয়ে যাওয়ার সুবিধাও মিলবে। ৩০ বছর বয়সী স্বামী এবং ২৮ বছর বয়সী স্ত্রী ২০ বছরের মেয়াদের ১০ লক্ষ টাকার কভার নিলে বার্ষিক প্রিমিয়াম আনুমানিক ৭০,০০০ টাকা থেকে ৯৫,০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে, যা বয়স ও স্বাস্থ্য অনুযায়ী পরিবর্তনশীল। এই প্ল্যানে আয়কর আইনের ৮০সি ধারা অনুযায়ী প্রিমিয়ামে ছাড় এবং ১০(১০ডি) ধারা অনুযায়ী ম্যাটুরিটির টাকা শর্তসাপেক্ষে সম্পূর্ণ করমুক্ত হয়।
প্রভাব ও বিশ্লেষণ
যাঁরা একদম ঝুঁকিমুক্ত নিরাপদ সঞ্চয়, স্বামী-স্ত্রীর যৌথ সুরক্ষা এবং মেয়াদের শেষে একটি নিশ্চিত মোটা অঙ্কের তহবিল গড়তে চান, তাঁদের জন্য এই প্ল্যানটি অত্যন্ত লাভজনক। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, মিউচুয়াল ফান্ডের মতো এতে আকাশছোঁয়া রিটার্ন মিলবে না এবং মাঝপথে পলিসি সারেন্ডার করলে আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। দীর্ঘমেয়াদী পারিবারিক সুরক্ষার স্বার্থে এককালীন প্রিমিয়ামের তুলনায় এই সীমিত প্রিমিয়ামের ফ্লেক্সিবল প্ল্যানটি মধ্যবিত্তের পকেটের চাপ অনেকটাই কমাবে।
